দুর্নীতির অভিযোগে বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ গৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হাসানের (এম আর হাসান) পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের মুখে গত ৩১ মার্চ তিনি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে প্রধান বিচারপতি সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করেন, যার আনুষ্ঠানিক গ্রহণ এখন সম্পন্ন হলো।
বিচারপতি এম আর হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে রায় পরিবর্তনের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ, যা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে দাখিল করা হয় বলে জানা যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তও শুরু হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত বাউল শিল্পী আবুল সরকার
এছাড়া বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনিক অসদাচরণের অভিযোগও ওঠে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী ইউ-লুপ এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘিরে তার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজমকে গাড়িচাপা দিলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তখন মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ অভিযোগ ছিল বিচারপতির প্রভাবের কারণে থানায় মামলা গ্রহণে অনীহা দেখা যায় এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বিচারপতি এম আর হাসানের বিরুদ্ধে বিচারিক বেঞ্চে দায়িত্ব পালনকালেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে কোম্পানি বেঞ্চে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে, যেখানে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রায় প্রভাবিত করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের যেসব বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়, তাদের মধ্যে এম আর হাসান অন্যতম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে অগ্রগতি হলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং সেই পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








