News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৮, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশে বিরল লাইরিড উল্কাবৃষ্টি ও নক্ষত্রের মহোৎসব

বাংলাদেশের আকাশে বিরল লাইরিড উল্কাবৃষ্টি ও নক্ষত্রের মহোৎসব

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য এপ্রিলের শেষার্ধে শুরু হয়েছে এক বিরল ও আকর্ষণীয় মহাজাগতিক সময়, যেখানে রাতের আকাশে একসঙ্গে দেখা মিলবে উল্কাপাত, গ্রহের অবস্থানগত পরিবর্তন এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহের মনোমুগ্ধকর উপস্থিতি। 

এপ্রিলের প্রথমভাগে গ্রহদের কুচকাওয়াজ ও পূর্ণিমার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত রাতের আকাশ সাজবে এক অনন্য রূপে। 

মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই পক্ষকালব্যাপী আয়োজনের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বিখ্যাত ‘লাইরিড উল্কাপাত’ এবং গ্রহদের নাটকীয় অবস্থান পরিবর্তন।

প্রতি বছর এই সময়ে পৃথিবী যখন ‘থ্যাচার’ নামক ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ অতিক্রম করে, তখনই বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে সৃষ্টি হয় এই দৃষ্টিনন্দন উল্কাবৃষ্টি। যদিও এই উল্কাপাত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, তবে গবেষকরা জানিয়েছেন যে আগামী ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে ২৩ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত এটি এর চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাবে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে পর্যবেক্ষকরা প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উজ্জ্বল উল্কা দেখার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ২১ এপ্রিলের দিকে চাঁদের ক্ষীয়মাণ দশার মৃদু আলো উল্কাপাত দেখার ক্ষেত্রে সামান্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে ৬ বিরল ‘গ্রহ প্যারেড’

এপ্রিলের শেষার্ধে গ্রহদের অবস্থানেও আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। বর্তমানে পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ বেশ উজ্জ্বল থাকলেও এটি ধীরে ধীরে দিগন্তের নিচে হারিয়ে যাবে। তবে সন্ধ্যার আকাশে মঙ্গল গ্রহের চিরচেনা লালচে আভা থাকবে অম্লান। ভোরের আকাশে শনি গ্রহ তার রাজকীয় উপস্থিতি জানান দেবে, যার খুব কাছেই অবস্থান করবে বরফদানব নেপচুন। তবে সাধারণ চোখে নেপচুন ধরা না দিলেও শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে আকাশপ্রেমীরা এই বরফ-দৈত্যের দেখা পেতে পারেন।

উল্কা ও গ্রহ ছাড়াও নক্ষত্রপ্রেমীদের জন্য দক্ষিণ আকাশে দৃশ্যমান হবে ‘করভাস’ বা কাক নক্ষত্রপুঞ্জ। দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে কন্যা রাশির উজ্জ্বল নীলচে নক্ষত্র ‘স্পাইকা’র উপস্থিতি আকাশকে আরও মায়াবী করে তুলবে। সেই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব আকাশে দেখা মিলবে বসন্তের অন্যতম দূত এবং আকাশের চতুর্থ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ‘আর্কটারাস’-এর।

সব মিলিয়ে এপ্রিলের এই শেষার্ধ বাংলাদেশের সাধারণ আকাশ পর্যবেক্ষক ও পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এক অভাবনীয় নাক্ষত্রিক মঞ্চ তৈরি করতে যাচ্ছে। দূষণমুক্ত ও পরিষ্কার আকাশ থেকে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো উপভোগ করার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়