বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে ৬ বিরল ‘গ্রহ প্যারেড’
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী ও নক্ষত্রপ্রেমীদের জন্য এক মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। চলতি মাসের শেষভাগে সৌরজগতের ছয়টি গ্রহ এক সারিতে অবস্থান করে তৈরি করতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্ল্যানেট প্যারেড’ বা গ্রহসমাবেশ।
আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে একই রেখায় সারিবদ্ধভাবে দেখা যাবে।
বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো থেকে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।
জ্যোতির্বিদদের মতে, পৃথিবীর সাপেক্ষে যখন চার বা তার বেশি গ্রহ আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসে, তখন তাকে গ্রহের বিন্যাস বা প্যারেড বলা হয়। যদিও বাস্তবে গ্রহগুলো একে অপরের থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে, কিন্তু কক্ষপথে তাদের গতির কারণে পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় তারা একই সরলরেখায় অবস্থান করছে। এই সারিবদ্ধতা মূলত একটি দৃশ্যমান বিভ্রম, যা মহাকাশীয় জ্যামিতির এক চমৎকার প্রতিফলন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী সূর্যাস্তের প্রায় ৩০–৪৫ মিনিট পর পশ্চিম আকাশে এই বিরল বিন্যাস দেখা যাবে। বুধ গ্রহটি দিগন্তের খুব নিচুতে অবস্থান করবে, তাই পরিষ্কার দিগন্তরেখা না থাকলে এটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। শুক্র, বৃহস্পতি ও শনি সহজেই খালি চোখে চেনা যাবে। বৃহস্পতি আকাশে তুলনামূলক উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হবে, আর শনি থাকবে শুক্র ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী অঞ্চলে। ইউরেনাস ও নেপচুন প্রদক্ষিণ করবে সৌরজগতের দূরবর্তী শীতল অঞ্চলে, তাই এগুলো দেখার জন্য প্রয়োজন পড়বে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ।
আরও পড়ুন: এপ্রিলে ঢাকায় ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো’
জ্যোতির্বিদরা সতর্ক করেছেন, গ্রহগুলো প্রকৃতপক্ষে একে অপরের থেকে লক্ষ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পৃথিবীর দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অবস্থান একই সরলরেখায় হওয়ায় এমন দৃশ্য মনে হবে যেন তারা একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। আগের বার ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সাতটি গ্রহ—বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন—এক লাইনে দেখা গিয়েছিল। এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ পরবর্তী বার ২০৪০ সালের আগে হবে না।
বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত দর্শকরা গ্রহসমাবেশটি দেখতে পারবেন। তবে সময় অঞ্চল অনুযায়ী সঠিক সময় ভিন্ন হবে। যেমন, ব্রাজিলের সাও পাওলোর জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি, এথেন্স, নিউ ইয়র্ক, মেক্সিকো সিটি ও টোকিওর জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি, বেইজিং, বার্লিন, লন্ডন ও মুম্বাইতে ১ মার্চ এবং আইসল্যান্ডের রেইকজাভিকে ২ মার্চ এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে।
জ্যোতির্বিদদের মতে, চার বা পাঁচটি গ্রহ একসঙ্গে দেখা অস্বাভাবিক নয়, তবে ছয়টি গ্রহকে একই সরলরেখায় দেখা বিরল। এটি মূলত একটি দৃশ্যমান প্রভাব, যা সৌরজগতের ধীরগতির এবং পর্যায়ক্রমিক নক্ষত্রচক্রের কারণে ঘটে। তাই আকাশপ্রেমীরা একবারে ছয়টি গ্রহকে কাছাকাছি অবস্থানে দেখার এই সুযোগ মিস করলে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, গ্রহসমাবেশটি দেখার জন্য আকাশের দিক পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিগন্তের কাছাকাছি গ্রহগুলোও দৃশ্যমান হবে, কিন্তু নিম্নাঞ্চলের বায়ুমণ্ডল আলোকে বিকীর্ণ ও ছড়িয়ে দেয়, ফলে খালি চোখে দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
এই অদ্ভুত এবং মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক প্রদর্শনী বিশ্বের সকল আকাশপ্রেমীর জন্য এক নজরকাড়া অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকান—সৌরজগতের এই নৃত্যচক্রের সাক্ষী হওয়ার জন্য এটি একটি দুর্লভ সুযোগ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি/এনডি








