যুক্তরাজ্যে এক বছরে ৯৫০০ কোটি ভুয়া মোবাইল বিজ্ঞাপন
ছবি: সংগৃহীত
গত বছরে যুক্তরাজ্যে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সামনে প্রায় ৯৫০০ কোটি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে।
প্রযুক্তি জায়ান্টদের পকেট ভারী হলেও এই ডিজিটাল জালিয়াতির কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ হারিয়েছেন কোটি কোটি অর্থ।
নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রিটিশ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে মাসে প্রায় ২০০টির মতো প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছেন।
২০২৫ সালে মোট ৯৫০০ কোটি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছেন যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীরা। আর এসব বিজ্ঞাপনের ফলে যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারা এমন প্রতিটি ঘটনায় গড়ে ১ হাজার ২৫৮ পাউন্ড অর্থ খুইয়েছেন।
বিপরীতে, এসব বিজ্ঞাপন প্রচারের ফলে শত শত কোটি ডলার আয় করছে প্রযুক্তি জায়ান্টরা।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ব্যক্তিগত গড় আর্থিক ক্ষতির এ তালিকায় ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দ্বিতীয়। তালিকার শীর্ষে রয়েছে আয়ারল্যান্ড (গড়ে ১ হাজার ২৯২ পাউন্ড)।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ গ্রাহকদের লক্ষ্য করে চালানো এসব প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম বছরে প্রায় ৪৩ কোটি পাউন্ড রাজস্ব আয় করেছে। ব্যাংকিং অ্যাপ ‘রিভোলুট’-এর জন্য এ গবেষণাটি করেছে ‘জুনিপার রিসার্চ’।
আরও পুড়ুন: অ্যাম্বার আইটি-ব্র্যাক হেলথকেয়ার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
গবেষণার তথ্য অনুসারে, ২০৩০ সাল নাগাদ কেবল যুক্তরাজ্যেই প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। পুরো ইউরোপ জুড়ে এ সংখ্যা প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়নে গিয়ে ঠেকতে পারে।
এ গবেষণায় মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটার দুই প্ল্যাটফর্ম ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ছাড়াও রয়েছে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স ও লিংকডইন-এর মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম।
গবেষণায় বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিল মেটা।
তবে গবেষণায় কিছু ‘ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথি’র বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আসলে সমস্যা সমাধানের বদলে বিশেষ কিছু ‘কি ওয়ার্ড’ ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যবহারকারীদের চোখ থেকে এসব বিজ্ঞাপন লুকিয়ে রেখেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি।
যুক্তরাজ্যের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের দেখানো প্রতি ১০টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে অন্তত একটি প্রতারণামূলক বা ‘স্ক্যাম’।
এসব বিজ্ঞাপন ঠিক কী ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত গবেষণায় তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। তবে ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকায় আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রতারণার মধ্যে ডিপফেইক বা এআই দিয়ে তৈরি নকল ভিডিও বা অডিও, পরিচয় চুরি ও নকল অনলাইন শপ বা বিক্রেতা সেজে প্রতারণার মতো বিভিন্ন কনটেন্টে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে চালানো প্রতারণার হারও বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা বা ধরা বেশ কঠিন।
পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ বা ফাইনান্স নিয়ে যারা পরামর্শ দেন তাদের কথা শুনে হুটহাট কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে গবেষণায়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








