অবুঝ প্রাণীর অসহায়ত্ব নিয়ে ‘কনটেন্ট’, পিয়া জান্নাতুলের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার একটি মা-হারা শিশু বানরের আবেগঘন ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাতৃহীন ছোট্ট প্রাণীটি পরম মমতায় একটি নরম খেলনাকে আঁকড়ে ধরে আছে। দৃশ্যটি সাধারণ নেটিজেনদের পাশাপাশি গভীরভাবে স্পর্শ করেছে জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলকে।
তবে এই অবুঝ প্রাণীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পিয়া জান্নাতুল বিষয়টি নিয়ে তার আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মা-হারা ওই শিশু বানরটির খেলনা জড়িয়ে ধরে থাকার দৃশ্যটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কেবল একটু আদরের প্রত্যাশা থেকেই সে এমনটি করছে। কিন্তু এই আবেগঘন মুহূর্তটিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাটা মোটেও শোভন নয়। অনেক ব্র্যান্ড ওই বানরটির নাম ট্যাগ করে নিজেদের পণ্যের প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে, যা পিয়ার দৃষ্টিতে অত্যন্ত ‘স্বার্থপর’ একটি আচরণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, দেখলাম ও (বাচ্চা বানর) একটা নরম খেলনা জড়িয়ে ধরে থাকে। সত্যি বলছি, ভিডিওটা দেখে খারাপ না লাগতে পারে না। একটা ছোট্ট প্রাণী শুধু একটু আদর খুঁজছে। কিন্তু এরপর যেটা হলো, সেটা ভালো লাগেনি। অনেক ব্র্যান্ড ওর নাম ট্যাগ করা শুরু করল, নিজের প্রোডাক্টের সাথে ওর গল্প জুড়ে দিল।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে মদসহ আটকের প্রমাণ চাইলেন মেহজাবীন
তিনি কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একটি অসহায় প্রাণীর কষ্টকে আবেগী কথার মাধ্যমে মার্কেটিংয়ের হাতিয়ার বা ‘কনটেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
পিয়া বলেছেন, ইমোশনাল কথা লিখে মার্কেটিং করল। মানে একটা বাচ্চা প্রাণীর কষ্টও এখন কনটেন্ট। আমার কাছে এটা খুব স্বার্থপর লাগে। একটা অসহায় প্রাণীর আবেগকে নিজের লাভের জন্য ব্যবহার করা ঠিক না। তিনি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিকতার প্রতি জোর দিয়েছেন।
এছাড়া, পবিত্র রমজানের মাহাত্ম্য তুলে ধরে পিয়া বলেন, এখন তো রমজান। আমরা নিজেরাই রোজা রেখে বুঝি খিদা কী জিনিস। ইফতারের আগে পেটের সেই কষ্টটা তো আমরা অনুভব করি। তাহলে ভাবুন, রাস্তায় থাকা প্রাণীগুলো যারা প্রতিদিন না খেয়ে থাকে, তাদের কেমন লাগে।
সবশেষে ভক্ত ও অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেছেন, দয়া করে একটু মানবিক হই। সম্ভব হলে একটু খাবার দিই, একটু খেয়াল রাখি। রমজান আমাদের শুধু নিজের ইবাদত না, অসহায় প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্ব মনে করিয়ে দিক।
পিয়ার আইনগত ও শোবিজ সংক্রান্ত পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সঙ্গে আইনগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনা সামাজিক দায়বোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, অসহায় প্রাণীর আবেগকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








