News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসিতে খাতা বাতিলের নতুন নিয়ম ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

এসএসসিতে খাতা বাতিলের নতুন নিয়ম ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

ফাইল ছবি

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পরীক্ষার হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় এই কঠোর ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। নকলমুক্ত ও প্রমাদহীন পরীক্ষা নিশ্চিত করতেই মূলত এই কৌশলটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে নকলসহ ধরতে না পারলেও যদি পরীক্ষার হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়, তবে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ করা হয়। এর আওতায় কথা বলা, ঘাড় ঘোরানো বা একে অপরের খাতা দেখে লেখার মতো অনিয়ম করলে দায়িত্বরত পরিদর্শক তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে কোনো বাধা না দিয়ে বা তাকে না জানিয়েই বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর ফলে পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন, কিন্তু ফলাফল তৈরির সময় তার সংশ্লিষ্ট খাতাটি বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে যদি অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের কারণে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা হয়, তবে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ ছেঁড়া যাবে না। পর্যবেক্ষকের বিস্তারিত প্রতিবেদনসহ বোর্ডের নির্ধারিত গোপনীয় ফরমে তথ্য পূরণ করে পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেট করতে হবে। উক্ত প্যাকেটের ওপর লাল কালি দিয়ে স্পষ্টাক্ষরে ‘রিপোর্টেড’ লিখে অন্যান্য সাধারণ উত্তরপত্রের বাক্সে বা বস্তায় আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বৃত্তির অর্থ ও সংখ্যা বাড়ানোর ভাবনা সরকারের: ববি হাজ্জাজ

নীতিমালা অনুযায়ী, এক বিষয়ে নীরব বহিষ্কার হওয়ার পর পরীক্ষার্থীকে সঙ্গত কারণেই পরবর্তী বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ সতর্কতা। যদি ওই শিক্ষার্থী পরবর্তী পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম নাও করে, তবুও তার পরবর্তী প্রতিটি বিষয়ের সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্রগুলো প্রথম অংশ না ছিঁড়ে আলাদা প্যাকেটে জমা দিতে হবে। প্রতিটি প্যাকেটের সাথে পূর্বের ‘নীরব বহিষ্কার’ হওয়ার কারণ ও বিষয়ের উল্লেখ সংবলিত প্রতিবেদন যুক্ত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে পরীক্ষার হলে অহেতুক বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে কঠোরভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরণের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই এই গোপনীয় ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে তাদের।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়