৪ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে রাউজানে গর্তে পড়া শিশু উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধারকালে শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তারা। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জোন-৩-এর উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সার্চ ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার পর বিশেষ পদ্ধতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রাম ও দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর এলাকায় সরকারি প্রকল্পের জন্য খনন করা গভীর নলকূপের গর্তে শিশুটি পড়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. আলী জানান, শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ যানের সহায়তায় মাটি কেটে তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, খেলতে গিয়ে শিশুটি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা গর্তে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুটির বয়স আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: এবার চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেলো শিশু
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, একটি সরকারি প্রকল্পে গর্তটি খনন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম বিভিন্ন তথ্যে মেজবাহ ও মিসবাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে একই এলাকার দিনমজুর সাইফুল ইসলামের ছেলে।
শিশুটির মা রাশেদা বেগম জানান, বাড়ির পাশে ঢালু স্থানে সরকারি প্রকল্পের টিউবওয়েলের জন্য প্রায় তিন বছর আগে গর্তটি করা হয়েছিল। সেখানে খড়কুটো ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও গর্তটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ছিলেন এবং শিশুটি পাশে খেলছিল। পরে কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে গর্তের ভেতরে পড়ে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে চিৎকার করছিল।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন এবং কেউ কেউ গর্তের ভেতরে গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








