News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ধানমন্ডিতে পিঠা খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নিহত ১

ধানমন্ডিতে পিঠা খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নিহত ১

ফাইল ছবি

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফুটপাতে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে পিঠা বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে রনি খন্দকার (৪৭) নামে এক গাড়িচালক নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ধানমন্ডি তিন নম্বর রোডের ফুটপাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। 

নিহত রনি খন্দকার একটি বেসরকারি কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন এবং তিনি সপরিবারে হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ধানমন্ডি ৩ নম্বর রোডের পাশে একটি ফুটপাতের পিঠার দোকানে পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্রেতার সাথে রনি খন্দকারের কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে পিঠা বিক্রেতা উত্তেজিত হয়ে তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে রনির বুক ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজালাল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে পাহাড়ি এলাকা থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

নিহত রনি খন্দকার বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ খন্দকারের ছেলে। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের ছেলে মো. রায়হান খন্দকার জানান, তার বাবা একজন গাড়িচালক ছিলেন এবং পিঠা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্রেতার সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তবে পূর্বে তাদের মধ্যে কোনো শত্রুতা ছিল কি না সে বিষয়ে পরিবার কোনো তথ্য জানে না।

রায়হান খন্দকার বলেন, আমার বাবা একজন সাধারণ গাড়িচালক ছিলেন। পিঠা খাওয়া নিয়ে সামান্য তর্কে এভাবে তাকে মেরে ফেলা হবে তা কল্পনাও করতে পারছি না। ওই বিক্রেতার সাথে বাবার আগে কোনো শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তুচ্ছ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে কি না বা ঘটনার সময় অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এ ধরনের তুচ্ছ ঘটনার জন্য এ ধরনের জঘন্য হামলা সমাজে নিরাপত্তা এবং শান্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়