News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১১, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে রণক্ষেত্র ঢামেক

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে রণক্ষেত্র ঢামেক

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন, যার ফলে মধ্যরাত থেকে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল চত্বরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢামেকের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের সপ্তম তলার ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমা বেগম (৩৩) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। তার স্বামী ইফতেখার এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল হলেও তিনি লালবাগের আজিমপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

রোগীর ছেলে ইমতিয়াজ জানান, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার সৎ মায়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়ার কথা থাকলেও একটি ইনজেকশন সরাসরি শরীরে পুশ করা হয়, যার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাকে তারা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা বলে দাবি করেন।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাত আনুমানিক ১টার দিকে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। 

অভিযোগ রয়েছে, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর আশপাশের এলাকা থেকে ২০–৩০ জন ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ডিউটিরত এক চিকিৎসককে মারধর করেন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে আরও দুই-একজন আহত হন।

আরও পড়ুন: মিরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৬

ইন্টার্ন চিকিৎসক শিহাব গণমাধ্যমকে জানান, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজিত স্বজনরা ডা. তৌহিদ, ডা. রাহাত, ডা. বাপ্পি ও ডা. নাঈমকে মারধর করেন। আহত চিকিৎসকদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলাকারীদের মধ্যে প্রথমে দুজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

চিকিৎসকদের ওপর হামলার খবরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারীদের তাড়িয়ে দেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রধান গেটসহ হাসপাতালের বিভিন্ন প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন। 

তাদের দাবি ছিল, হাসপাতালের পরিচালক উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত গেট খোলা হবে না।

ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মরদেহ নিচে নামানো হয়। আনসার সদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধাওয়ায় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ইমতিয়াজকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল চত্বরে র‍্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

তিনি জানান, এ ঘটনায় অন্তত দুজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে আরেক দফা তথ্যে চার-পাঁচজনকে থানায় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহবাগ থানার সরকারি ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম।

পরিদর্শক মো. ফারুক আরও জানান, এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তালা খুলে দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা সেবা পুনরায় চালু হয়।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাত পৌনে তিনটার দিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি চিকিৎসা ব্যতীত অন্য রোগীদের আপাতত হাসপাতালে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়