লিটারে ২ টাকা কমলো জ্বালানি তেলের দাম
ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে পুনর্নির্ধারিত এই নতুন মূল্য রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ কর্তৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১২২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ১০২ টাকা ও ১২২ টাকায়। একই সময়ে পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ছিল যথাক্রমে ১১৬ টাকা ও ১১৪ টাকা।
সরকার গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। ফলে প্রতি মাসেই নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও কমবে এবং বাড়লে সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে ১৪৬১ কোটি টাকার ডিজেল আমদানির অনুমোদন
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বেও প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রথা রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলে। ডিজেল মূলত কৃষি সেচ, পরিবহন এবং জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আগে নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি। বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এ দুই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এলপিজির দামও মাসভিত্তিক নির্ধারণ করছে সংস্থাটি।
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








