রমজানের শুরুতেই আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের দাম
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি ও শুল্কছাড়ের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর, প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি এবং বিভিন্ন সবজির দাম তিন দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতাদের চাপ প্রতিফলিত হচ্ছে বাজারে।
নতুন সরকারের প্রথম দিনেই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা তাতে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। শুল্কছাড়ের সুযোগ নিয়ে খেজুর আমদানি করা হলেও তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রমজানকে সামনে রেখে মুরগির বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
ক্রেতারা সতর্ক করছেন, দ্রুত তদারকির ব্যবস্থা না হলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
খেজুরের দাম: আমদানি খরচের দ্বিগুণ-তিনগুণ
রমজানে প্রতিদিনের ইফতারের অপরিহার্য উপকরণ খেজুরের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা এই তিন পর্যায়ের দাম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোক্তাদের জন্য খেজুরের খরচ আমদানি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিসহ মোট শুল্ক প্রায় ৪০.৭ শতাংশ।
- মেডজুল, আজওয়া ও আম্বার জাতের প্রতি কেজি খেজুরের আমদানি খরচ (শুল্কসহ) ৬৪৩-৬৫০ টাকা।
- মরিয়ম খেজুরের আমদানি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা।
- সাধারণ মানের খেজুরের খরচ কেজিতে ৪০০ টাকার কিছু বেশি।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স ১৯৭ কোটি ডলার
তবে বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ। বাদামতলীতে পাইকারি মেডজুল খেজুরের কেজি দেড় হাজার টাকা, খুচরায় ১,৬০০-১,৮০০ টাকা। আজওয়া খেজুর পাইকারিতে ৭০০ টাকা হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা, মরিয়ম পাইকারিতে ৯০০ টাকা হলেও খুচরায় কিনতে খরচ হবে ১,১০০-১,৩০০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রধান প্রোটিন উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও সাম্প্রতিক দুই দিনে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন দিন আগে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ২১০-২৩৫ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩৩০-৩৫০ টাকা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লারের কেজি ১৬০-১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ২৭০-২৯০ টাকায় বিক্রি হত।
সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম
এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৮০ টাকা। নিম্নমানের বেগুনও ৮০-১০০ টাকায় কেনা সম্ভব। লেবুর দাম এখনো আকাশচুম্বী; মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু কিনতে খরচ হবে ১০০-১১০ টাকা। ছোলার দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে, বর্তমানে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, আমদানি খরচের তুলনায় চড়া বিক্রয়মূল্য এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব সাধারণ ক্রেতাদের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








