মন্দা রফতানি, নির্বাচন ও ঈদে আর্থিক সংকটে পোশাক শিল্প
ফাইল ছবি
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং টানা নেতিবাচক রফতানি প্রবৃদ্ধির মধ্যেই দেশের তৈরি পোশাক শিল্প এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচন ও ধর্মীয় উৎসবের দীর্ঘ ছুটি সব মিলিয়ে এক ‘দুষ্টচক্রে’ আটকা পড়তে যাচ্ছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩৫ দিন কারখানা সচল থাকবে, যা উৎপাদন ও সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ ও উৎপাদন সচল রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ এবং প্রণোদনার বকেয়া অর্থ দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক রফতানি বৈশ্বিক অস্থিরতা, মার্কিন শুল্কনীতি এবং দেশীয় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষভাবে, টানা ছয় মাস ধরে রফতানি কমে আসায় নির্বাচনী অস্থিরতা এবং ধর্মীয় ছুটিসহ সামনের দুই মাস ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী জানিয়েছেন, সাধারণত বাৎসরিক ছুটির তালিকায় নির্বাচনের দিন অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তবে এবার নির্বাচন উপলক্ষে গার্মেন্টস বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে ঈদসহ অন্যান্য ছুটি, যা পেমেন্ট ও অর্ডার শিপিংয়ে প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: ‘অর্থনীতি এখন সন্তোষজনক পর্যায়ে, পে-স্কেলের অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন’
শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা খোলা থাকবে মাত্র ৩৫ দিন, তবু মার্চ মাসে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে হবে। বোনাস ও অগ্রিম বেতন মিলিয়ে শ্রমিকদের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। রফতানি মন্দার সময়ে সরকারের আর্থিক সহায়তা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধ বা উৎপাদন চালু রাখা কঠিন হবে।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, মার্চে রোজার ঈদ, মে মাসে কোরবানির ঈদ এতো ছুটির কারণে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থাকবেই। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে যদি সরকার সাময়িক সহায়তার হাত বাড়াত, নেতিবাচক ধারা থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেত।
রফতানি আয়ের ঘাটতি বিদেশি ঋণ পরিশোধের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তার বিকল্প নেই।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত চাপের মধ্যে রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হওয়া পর্যন্ত সরকার স্বল্পমেয়াদে ভর্তুকি দিতে পারে। তবে শুধুমাত্র ভর্তুকি দিয়ে একটি খাত দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শিল্পকে স্থিতিশীল করতে হলে সরকারের আগে রাজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে ডব্লিউটিওর কমপ্লায়েন্ট সুবিধার দিকে নজর দিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে সংকট কাটিয়ে রফতানি সচল রাখতে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্বল্প সুদে ঋণের পাশাপাশি প্রণোদনার বকেয়া অর্থ দ্রুত মুক্তির জন্য জরুরি বৈঠক করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








