খেলা শেষ, খোদা হাফেজ: মাহফুজ আলম
ফাইল ছবি
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উগ্র ডানপন্থি বা ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং সাম্প্রতিক মব বা গণ-সন্ত্রাসের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এক অত্যন্ত বিস্ফোরক ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সোমবার (০৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খেলা শেষ, খোদা হাফেজ! শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন যে, তথাকথিত রাইট-উইং বা ডানপন্থি রাজনৈতিক বলয় নিজেদের সংকীর্ণ নির্বাচনী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে ভাড়াটে সৈন্য বা মার্সেনারি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
মাহফুজ আলমের মতে, মাজার, পত্রিকা অফিস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে এই ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং এই নৈরাজ্যের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ তাদের রাজনৈতিক বৈতরণী পার করার চেষ্টা চালিয়েছে। এখন কাজ উদ্ধার হওয়ার পর সেই রাজনৈতিক বলয়টি এই চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর দায়ভার এড়িয়ে নিজেদের হাত ধুয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মাহফুজ আলমের বিশ্লেষণে গত দুই বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফার-রাইট উপাদানগুলোর উত্থানের পেছনে সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কীভাবে কথিত রাইট-উইং কুশীলবদের দ্বারা এই উগ্র গোষ্ঠীগুলো সৃষ্ট ও পুষ্ট হয়েছে। এই অপশক্তির প্রধান লক্ষ্য ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে একটি সর্বজনীন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবর্তে ইসলামি, ঐতিহ্যবাদী বা পুনর্জাগরণবাদী বিপ্লব হিসেবে চিত্রিত করা। এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বীতশ্রদ্ধা ও দূরত্বের সৃষ্টি করা। অনলাইনে এবং অফলাইনে এসব গোষ্ঠী যে অভূতপূর্ব মব-নৈরাজ্য চালিয়েছে, তা নির্দিষ্ট কিছু কুশীলবের আসকারা ও শরিকানা ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তিনি এই গভীর চক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য দেশের বিজ্ঞজন ও বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি গত বছরের শুরু থেকেই এসব উগ্রবাদী গুন্ডাতন্ত্র এবং ডিজিটাল মবের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এই অবস্থানের কারণে তাকে কেবল রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হতে হয়নি, বরং এই গোষ্ঠীগুলোর ফুটসোলজার বা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নানামুখী দৌরাত্ম্য ও হেনস্তাও সহ্য করতে হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই থামেননি, বরং সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে এক প্রকার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন।
পোস্টের উপসংহারে তিনি বলেছেন, “সামনের দিনগুলো সবার জন্য Reckoning (হিসাব-নিকাশের)-এর।” এই রেকনিং বা দায়বদ্ধতার দিন যে আসন্ন, তা তার ভাষ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন বিভিন্ন মহলে ক্ষমতার পালাবদল ও সমীকরণের হিসাব চলছে, ঠিক তখনই মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং চরমপন্থা দমনে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








