‘ক্ষমতায় গেলে শহীদ-আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করবে বিএনপি’
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবার পুনর্বাসন করার দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
রিজভী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর লালমাটিয়ায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) গুরুতর আহত পরিবারের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মতবিনিময় সভা হয়। ওই সভায় একজন মায়ের আকুতি ও বুকভাঙা কান্না দেখে চেয়ারম্যান গভীরভাবে বিচলিত হন। সেই মুহূর্তে তিনি রিজভী ও আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন—ঢাকায় তিনি যে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে জানার জন্য।
রিজভী বলেন, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা আজ শহীদ ফিরোজের পরিবারের কাছে গেছেন এবং কিছু সহযোগিতাও নিয়ে এসেছেন। শহীদ ফিরোজ রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ‘পলাতক ফ্যাসিবাদ বিদায়’ সময়ও নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়—শহীদ ফিরোজ তারই আরেকটি নির্মম নিদর্শন। বর্তমানে শহীদ ফিরোজের পরিবার রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে। তারা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, খোঁজখবর নিয়েছে এবং ঠিকানা সংগ্রহ করেছে। বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।
রিজভী আরও বলেন, শহীদ ফিরোজের দুই সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ ও লেখাপড়া নিয়ে তাদের দাদি, অর্থাৎ ফিরোজের মা অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত। এ বিষয়গুলো তারা অবহিত হয়েছে, নোট নিয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
তিনি বলেন, শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া সন্তানদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এছাড়া শহীদ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের কোনোভাবেই বঞ্চিত না হতে দেয়া হবে—এটাই তাদের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ব বৈষম্যহীন-সুন্দর বাংলাদেশ: রিজভী
শহীদ ও আহত পরিবারের পুনর্বাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিজভী বলেন, আপনারা জানেন আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান মহোদয় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, একটি বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, এটি নজিরবিহীন ঘটনা। তাই এই মহিমান্বিত আত্মদানকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি অতীতে যেমন তাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের সামগ্রিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি আশা করে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে—নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চির ধরছে কি না। শেক্সপিয়ারের ভাষায় ‘Something is rotten in the state of Denmark’—এই ধরনের কোনো গন্ধ তারা অনুভব করছে।
তিনি বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চিড় ধরবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে, যাতে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, নিঃসংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারে। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে—এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
রিজভী বলেন, ভোটাররা যেন ১২ তারিখ সকালে নিশ্চিন্তে ঘুম থেকে উঠে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। নির্বাচন কমিশন যেন তার নিরপেক্ষতার রং অক্ষুণ্ণ রাখে এবং সরকার যেন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। অন্যথায় ইতিহাস ও দেশের জনগণের কাছে তারা দায়ী থাকবে।
তিনি বলেন, একটি দল নির্বাচনে যাবে না—এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, এতে বিএনপির কিছু বলার নেই। তবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যেন জনগণ নিশ্চিত হতে পারে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং কোনো ধরনের সূক্ষ্ম বা বড় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হবে না।
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে রিজভী বলেন, এ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে—কোথাও ২ হাজার, কোথাও ১০ হাজার বলা হচ্ছে। কতজন এটি পাবে—এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে। এখন নির্বাচন ও প্রচারণার সময়—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলছেন না। তবে তিনি এক কথাই বলেন—ফ্যামিলি কার্ড হোক কিংবা ফার্মার্স কার্ড, চেয়ারম্যান যে অঙ্গীকার করেছেন, জনগণ যদি বিএনপিকে রায় দেয়, তাহলে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে; কোনো তথ্যগত গরমিল থাকবে না।
রিজভী আরও অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ফাঁক যেন না থাকে। তারেক রহমানের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র হতে হবে—‘বেহুলার বাসরঘরের মতো’ কোনো ছিদ্র থাকলে চলবে না।
তিনি বলেন, এই বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, তবে আপাতদৃষ্টিতে তারা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছে না।
এ অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনের উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ, ফরহাদ আলী সজীব, শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম মাহবুব, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, স্বেচ্ছাসেবক নেতা তুষার আহমেদ, ছাত্রদল নেতা মিসবাউল আলম, মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








