তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ব বৈষম্যহীন-সুন্দর বাংলাদেশ: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী) গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বিগত সরকারের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরেন এবং আগামীর রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন।
রিজভী বলেন, লন্ডনে অবস্থান করলেও তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। সেখান থেকেই তিনি দলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি কোন জেলায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা জানিয়ে দিয়েছেন এবং দল সেই অনুযায়ী সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
দলের অতীত ত্যাগ ও শোকের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি তাদের নেত্রীকে হারিয়েছে, সেই শোক এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি আজ নেই, তবে সেই আদর্শ ও পতাকা এখন তারেক রহমান বহন করছেন। এই পতাকা ধরে রাখতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: গুম-খুনে স্বজনহারাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনলেন তারেক রহমান
তিনি বলেন, এই জাতি বহু রক্তঋণের মধ্যে আবদ্ধ। সেই দায় ইতিহাসের সামনে শোধ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশ ভয়াবহ সময় পার করেছে। পেছন থেকে ট্রাক চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। সন্তানকে মায়ের কোল থেকে তুলে নিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি ইলিয়াস আলীসহ নিখোঁজ ও নিহতদের উদাহরণ উল্লেখ করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, সেই ভয়াল সময় এখন অতিক্রম করা হয়েছে। শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাখতে চাননি। বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারেক রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে সে সময় সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন।
রিজভী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সেই ধারাবাহিকতায় সবাইকে নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনার কোনো পূর্ণ সান্ত্বনা নেই। তারপরও আপনাদের শক্ত থাকতে হবে।
আলোচনা সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








