কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা শুরু
ছবি: সংগৃহীত
সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পূর্বনির্ধারিত এই শোকসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
যদিও জুমার নামাজের পর শোকসভা শুরুর কথা ছিল, তবে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশ শুরু হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর প্রবেশ গেটে আগতদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে এবং একই সঙ্গে সংসদ ভবনের বাইরেও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জুমার নামাজের পর সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেটে মানুষের চাপ আরও বাড়ে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ শোকসভায় অংশ নিতে আসেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কূটনীতিকদের আগমনও লক্ষ্য করা যায়। একাধিক দূতাবাসের গাড়ি সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভাকে কেন্দ্র করে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। দলীয়ভাবে সরবরাহ করা নির্ধারিত কার্ড ছাড়া কাউকে সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি যারা গাড়ি নিয়ে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও যানবাহনের জন্য আলাদা প্রবেশ কার্ড না থাকলে গাড়ি ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: মার্কিন শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তার সঙ্গে তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক
প্রবেশ গেট ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র নির্ধারিত কার্ডধারীরাই ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না, তাদের জন্য বাইরে বড় স্ক্রিনে শোকসভার কার্যক্রম দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শোকসভায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও শোকসভায় অংশ নেন।
শোকসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সংসদ ভবনের গেটের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন বিএনপি সমর্থক জানান, জিয়া পরিবারকে ভালোবেসে এবং আপোষহীন নেত্রীর জন্য দোয়া করতেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয়। তার স্মরণে আয়োজিত এই নাগরিক শোকসভাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








