১০০ দিনে বদলে যাওয়ার গল্প: নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা
ছবি: সংগৃহীত
গণআকাঙ্ক্ষা ও জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিনেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে এই স্বল্প সময়েই অর্থনীতি, সমাজনীতি, অবকাঠামো এবং বিচারব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ১০০ দিন পূর্তির এই বিস্তারিত খতিয়ান ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার যে গতিশীল ভূমিকা রেখেছে, তারই সামগ্রিক রূপরেখা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হলো।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নীতিনির্ধারণী দক্ষতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহাদী আমিন জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মোট ১০টি কেবিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় দেশের সার্বিক সংস্কার ও জনকল্যাণমুখী ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ অর্থাৎ ৩৭টি সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বর্তমানে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ যেন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে বিষয়ভিত্তিক ও খাতনির্ভর ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলেই মাত্র তিন মাসের মধ্যে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে এক যুগান্তকারী ও দৃশ্যমান রূপান্তর ঘটতে শুরু করেছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে পেতে শুরু করেছেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক লুণ্ঠন বন্ধে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুখপাত্র জানান, সমন্বিত ও কার্যকর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। একই সাথে বর্তমান সরকারের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে গত মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড তৈরি হয়েছে; বর্তমানে প্রবাসীদের মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিশ্বের ১০টি দেশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে ৩টি দেশের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ বিশাল তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে বৈশ্বিক ঋণ ও দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই প্রথম ১০০ দিনে ৯০.৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে সরকার বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারীদের ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই সম্পূর্ণ নারীকেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অর্থনৈতিক বোঝা লাঘবের উদ্দেশ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। গ্রামীণ নারীদের রান্নার কষ্ট ও ব্যয় কমাতে বিশেষ ভর্তুকিসহ যুগান্তকারী ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি ও পানির টেকসই উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ‘খাল খনন কর্মসূচি’ দেশজুড়ে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও উৎপাদনে নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে। এছাড়া দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রা যেন সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও আনন্দদায়ক হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রেন ও নৌ-সার্ভিস চালু, নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থা, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুততম সময়ে অপসারণ এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সুবিধার্থে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে বিকালে সংবাদ সম্মেলন
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক বিরল ও দ্রুততম দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ধামাচাপা পড়া তনু হত্যা মামলার প্রথম প্রধান আসামিকে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
জাতীয় সংসদকে দেশের সব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ও প্রকৃত অর্থবহ করতে দ্বাদশ সংসদের নবনির্বাচিত প্রথম অধিবেশনে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মাত্র ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই অধিবেশনে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সকল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের এমন সক্রিয়, গঠনমূলক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব। সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি বিরল ও অনন্য সম্মান প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো প্রকার বাড়তি সুবিধা বা ফ্লোর ক্রসিং না করে সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে অধিবেশন পরিচালনা করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাধীনতার মহান বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদের দর্শনার্থী গ্যালারি ‘সাত বীরশ্রেষ্ঠ’-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং সংসদের মূল প্রবেশপথটি উৎসর্গ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অমর স্মৃতির নামে। এছাড়া জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক মহলকে সন্তুষ্ট করতে পাসপোর্টে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধটি পুনরায় বাংলাদেশি পাসপোর্টে যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে নতুন সরকার। আন্দোলনে অংশ নেওয়া বীরদের ভবিষ্যৎ আইনি নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে জাতীয় সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়েছে। আন্দোলনে গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন বীর যোদ্ধাদের উন্নত ও বিশ্বমানের চিকিৎসার জন্য সরকারি অর্থায়নে ইতোমধ্যে শতাধিক যোদ্ধাকে রাশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ড. মাহাদী আমিন সরকারের এই ইতিবাচক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে কিছু মহলের অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যম ও নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও কুচক্রী মহল সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে সুপরিকল্পিত গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অর্জিত এই গণআকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং এদের বিরুদ্ধে আইনি কঠোরতা বজায় থাকবে।
দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহানগরের আধুনিকায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে নতুন সরকার। ঢাকার চিরচেনা ও দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য করতে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা’ মহাপরিকল্পনার আওতায় প্রাথমিক ধাপে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক বাস নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। ফুটপাথ থেকে সকল প্রকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করছে সরকার। এছাড়া মেগা প্রজেক্টগুলোর ধারাবাহিকতায় আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মহান বিজয় দিবসের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল সম্পূর্ণ কার্যকর ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করতে এবং দেশের আইটি খাতকে চাঙ্গা করতে দেশজুড়ে আধুনিক ‘অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পাশাপাশি দেশের প্রায় ২ লাখ পেশাদার ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। একই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণ ও সেবার মান বাড়াতে চালু করা হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’র দেশে উন্নীত করা। এই দূরদর্শী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল ও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল ‘ইকোনমিক করিডোর’ নির্মাণের বাস্তবমুখী প্রস্তুতি ও নকশা প্রণয়নের কাজ দ্রুত চলমান রয়েছে। দেশের সামগ্রিক কৃষি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এবং উত্তরাঞ্চলের মরণদশা দূর করতে ‘তিস্তা ব্যারেজ’ প্রকল্প নির্মাণের চূড়ান্ত ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক দর্শন ও মানবিক নেতৃত্বের অনন্য দিকগুলো তুলে ধরে মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের চিরাচরিত কঠোর গণ্ডি ও ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যাচ্ছেন। অতীতের মতো ভুক্তভোগীদের এখন আর নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে গণভবনের সামনে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় না; বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই আজ জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়া কিংবা সাধারণ পথ চলতে গিয়ে বাস থামিয়ে কোমলমতি শিশুদের আবদার পূরণ করা এসবই তার সম্পূর্ণ মানবিক, জনমুখী ও ব্যতিক্রমী রাজনীতির এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। দল-মত ও ভেদাভেদ ভুলে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সম্মিলিতভাবে কাজে লাগিয়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল, দুর্নীতিমুক্ত, স্বনির্ভর ও স্বচ্ছল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ এবং দেশবাসীও এই পরিবর্তনের সুফল পেতে শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








