ঈদ ফেরত যাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ট্রেন যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে আগামী ৩১ মে’র আন্তঃনগর ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। ঘরমুখী ও রাজধানীমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি কমাতে এবং স্টেশন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবারও শতভাগ আসন অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার এই সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সুবিধার্থে টিকিট বিক্রির সময়ে কিছুটা ভিন্নতা বা জোনভিত্তিক বিভাজন আনা হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট পাওয়া যাবে আজ দুপুর ২টা থেকে।
রেলওয়ের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন পর্যায়ক্রমে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে। সেই সূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগামী ১ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি হবে ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৫ মে। এর আগে গত ১৩ মে থেকে শুরু হয়েছিল ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ওইদিন ২৩ মে’র অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয় এবং পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে’র ঈদযাত্রার টিকিট সফলভাবে বিক্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রা নিরাপদে সম্পন্নে পুলিশের একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি
টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কালোবাজারি রোধ এবং প্রকৃত যাত্রীদের ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্তাবলী নির্ধারণ করে দিয়েছে। রেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে কেনা এই বিশেষ অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরত (Refund) দেওয়া যাবে না। এছাড়া একজন যাত্রী তার নিজস্ব এনআইডি (NID) ব্যবহার করে একবারে সর্বোচ্চ ৪টি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে টিকিট ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে এবার যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ সহযাত্রী নিয়ম; যেখানে নিজের পাশাপাশি অন্য সহযাত্রীদের জন্য টিকিট কাটলে, টিকিট কেনার সময় অনলাইনেই বাকি সহযাত্রীদের নাম ও পরিচয় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্র, বিশেষ করে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের 'ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন' (IRCTC) কিংবা ইউরোপের উন্নত রেল নেটওয়ার্কগুলো যেভাবে উৎসবের মৌসুমে টিকিটের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে শতভাগ ডিজিটাল টিকিট ও জোনাল টাইম-স্লট (আলাদা আলাদা অঞ্চলের জন্য ভিন্ন সময়) পদ্ধতি ব্যবহার করে, বাংলাদেশ রেলওয়েও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই মডেল অনুসরণের চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা একদিকে যেমন যাত্রীদের সশরীরে কাউন্টারে আসার ভোগান্তি কমায়, অন্যদিকে ‘টিকিট সিন্ডিকেট’ বা কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখে। তবে একই সময়ে লাখ লাখ মানুষ ই-টিকিটিং পোর্টালে যুক্ত হওয়ার কারণে যেন সার্ভার ডাউন বা পেমেন্ট গেটওয়েতে জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য রেলওয়ের আইটি বিভাগকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








