তিন সিটি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সবকিছু ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই এই তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমা বিবেচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত বছরের ১ জুন এবং ঢাকা উত্তর সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এই তিন সিটিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কমিশন।
আরও পড়ুন: জুয়া-মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল এই তিন সিটি নয়, বরং সারা দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রামের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশনসহ জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ঈদের পর থেকে ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে, যাতে সারা বছর জুড়ে নির্বাচনী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত রাখা হলেও, এখন জনসেবা নিশ্চিত করতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের মতো কারিগরি প্রস্তুতিগুলো দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদের সময় অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় সেখানে বিশেষ জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








