রমজানে সরকারি ও ব্যাংকের নতুন অফিস সময়সূচি কার্যকর
ফাইল ছবি
পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা এবং রোজাদারদের সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে নতুন সময়সূচিতে চলছে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত অফিস।
হিজরি ১৪৪৭ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সনের রমজান মাস উপলক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রমজানে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের জোহরের নামাজের বিরতি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বরাবরের মতোই শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বহাল থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রমজান মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে লেনদেন চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। তবে আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: স্টল ভাড়া ছাড়াই ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু বইমেলা
অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসও সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নামাজের বিরতি থাকবে। তবে জনস্বার্থে এবং গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বিরতির সময়েও ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
আদালত ও জরুরি সেবার কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের সুবিধার্থে পবিত্র রমজানে আদালতের কার্যক্রমেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের বিচারিক কার্যক্রম চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। তবে আদালতের অফিসিয়াল কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং এর আওতাধীন নিম্ন আদালতগুলোর বিস্তারিত সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হবে।
বিশেষায়িত ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিয়ম সরকারি সাধারণ সময়সূচি নির্ধারিত হলেও কিছু বিশেষায়িত খাতের জন্য শিথিলতা রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিমা এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব আইন, কাজের ধরণ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করে অনুসরণ করতে পারবে। মূলত রমজানে জনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইবাদত ও পারিবারিক সময় ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখেই এই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








