News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সব শঙ্কা উড়িয়ে ‘অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য’ ভোটের ঘোষণা সিইসির

সব শঙ্কা উড়িয়ে ‘অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য’ ভোটের ঘোষণা সিইসির

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কমিশন তার প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করেই কাজ করছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমরা একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন করবো ইনশাআল্লাহ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আগের দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে কারাগারে এমন বাস্তবতায় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে তিনি কতটা ভাবিত, এমন প্রশ্নের জবাবেও সিইসি একই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সিইসি বলেন, কমিশন শুরু থেকেই আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক ও কাঠামোগত সংলাপ এবং সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন এনে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদার সহযোগিতা করেছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। সীমিত সময়ের মধ্যেও প্রায় আট লাখ প্রবাসী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও নির্ধারিত ও যোগ্য ভোটারদের জন্য ডাক ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে।

আরও পড়ুন: ‘নির্বাচন ও গণভোটে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক পাঠানো হচ্ছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সারা দেশে সম্পন্ন হয়েছে, যাতে পেশাদারত্ব নিশ্চিত হয় এবং কঠোর মান অনুসরণ করা যায়। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজতর করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ভোটকর্মীদের সহায়তায় কেন্দ্রের কার্যক্রম ও গণনা পরিচালনা করবেন। প্রার্থীর এজেন্ট, স্বীকৃত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন। গণনা শেষে কেন্দ্রেই ফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচনে থাকছেন; আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক থাকছেন ৩৩০ জনের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নের। এছাড়া ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক থাকছেন এবং ৬০ হাজারেরও বেশি সাংবাদিককে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা বড় ভূমিকা রাখবেন। ভোটারদের গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার থাকবে এবং নির্বাচন শেষে পর্যবেক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের সহায়তায় সমন্বিত ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি নির্বিশেষে সব ভোটারকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদারত্ব ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের স্বীকৃতি জানিয়ে সিইসি বলেন, আমি একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে চাই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়