News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২২, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন যেভাবে

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন যেভাবে

ফাইল ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যানবাহন চলাচল ও বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের দিন এবং এর আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। 

এছাড়া নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এই তালিকায় নতুন যানবাহন যুক্ত করতে বা কোনো ক্ষেত্রে শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।

ভোটগ্রহণের দিনে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে। 

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা-রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের চলাচল সুনিশ্চিত করা যায়।

দূরপাল্লার বাস চলাচল ভোটের দিন সীমিত থাকবে। বাস চলাচলে আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পরিবহন খাতের অনেক কর্মী ভোট দেওয়ার কারণে ছুটিতে থাকবেন। 

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতির চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বাস চলবে, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে কিছু সার্ভিস সীমিত আকারে পুনরায় চালু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নির্বাচন ও গণভোটের সময় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জরুরি সেবা, চিকিৎসা কার্যক্রম, সংবাদপত্র পরিবহন, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি। 

এছাড়া সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি একইভাবে শিথিল সুবিধা পাবেন। স্থানীয় প্রয়োজন ও বাস্তবতা অনুযায়ী অতিরিক্ত যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে।

ইসি ভোটারদের স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনি এলাকার বাইরে ৮২ ঘণ্টার জন্য সাধারণ জনসাধারণের অবস্থান নিষিদ্ধ থাকলেও ভোটাররা নিজ কেন্দ্রের ভোট দিতে পারবেন। 

নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দেখালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা প্রদান করবে। ভোটের দিনে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল বন্ধ থাকলেও রিকশা চলবে, যার মাধ্যমে ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।

ভোটারদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচল সীমাবদ্ধতা সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়। নির্বাচনের পূর্বে এবং ভোটের সময় যথাযথ সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করতে কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেছে।

তবে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানোর পথে কোনো বাধা থাকবে না, এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসন সহায়তা নিশ্চিত করবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়