নির্বাচন প্রস্তুতি সন্তোষজনক, ‘পারফেক্ট ভোট’ চ্যালেঞ্জ: ড. ইউনূস
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরাজমান সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংস্কৃতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের জন্য এক বড় অর্জন। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি ‘পারফেক্ট’ বা নিখুঁত নির্বাচন নিশ্চিত করা।
তিনি বলেছেন, দেশে উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো শৃঙ্খল বজায় রেখেছে। কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলা বা অভদ্র আচরণের ঘটনা নেই, যা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটকে ‘পারফেক্ট’ করা।
শনিবার রাতের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের শেষ সপ্তাহটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে, নারী ও পুরুষ ভোটাররা পরিবারসহ অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এবারে ভোটকেন্দ্রে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টা র্যান্ডমভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ক্যামেরার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
আরও পড়ুন: দেশে পৌঁছেছে সাড়ে চার লাখের বেশি প্রবাসী ব্যালট
এর পাশাপাশি পুরো দেশব্যাপী ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করবেন। কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা বা গণ্ডগোলের ঘটনা ঘটলে, অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বার্তা পৌঁছাবে, যার ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ ধরনের প্রযুক্তি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
নিরাপত্তার জন্য মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সদস্য ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ বাহিনীর ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসার বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন সদস্য পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। কোস্ট গার্ড ও র্যাবও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য প্রেরিত ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ‘পাশা’ নামে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদানের অনুমতি স্থগিত রয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, ভোটাররা বিশেষ করে নারীরা পরিবারসহ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। নির্বাচন যেন নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও স্মরণীয় হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ বা তথ্য জানাতে নির্বাচনের সময়কালীন বিশেষ হটলাইন নম্বর ৩৩৩৩৩ চালু করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশে ভোটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








