News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যমুনার সামনে বিক্ষোভে গুলি ছোড়েনি পুলিশ: প্রেস উইং

যমুনার সামনে বিক্ষোভে গুলি ছোড়েনি পুলিশ: প্রেস উইং

ফাইল ছবি

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি চালায়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।

শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা বিক্ষোভ আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। 

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো বল প্রয়োগ করেনি। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

সংঘর্ষের এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: ‘বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি চলেনি’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবদুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক পেজ থেকে তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি প্রচার করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে বিবৃতিতে জানানো হয়, আহতদের শরীরে কোনো ধরনের গুলির আঘাত নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও, সরকার তা অস্বীকার করেছে।

শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগকে সরকার অবান্তর ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

সরকার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান রয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও বাংলাদেশের দিকে রয়েছে। ইতিমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক দেশে উপস্থিত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের স্থিতিশীলতা, সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সরকার আশা প্রকাশ করেছে, সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়