ভোটের বাইরে থাকা দলগুলোই বিশৃঙ্খলা করতে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে না, তারাই নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে দেশে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঘটছে না। যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তারা মূলত সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছে। যদি কোনো প্রকার সহিংসতা ঘটে, তবে তার দায়ভার ভোটে না থাকা দলগুলোকেই নিতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে যথেষ্ট সংযত আচরণ করছে। তবে সরকার সর্বাধিক সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাতে চায়। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কাউকে আমন্ত্রণ জানাবে না। যারা আসতে চাইবে, তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। ভারতের কোনো সাংবাদিক ভোট পর্যবেক্ষণে আসতে চাইলে তাদের ভিসা ব্যবস্থাও করা হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী নিরাপত্তায় ঢাকাসহ ৩ জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি
ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া দেশে নিরাপত্তার কোনো বড় বিঘ্ন ঘটেনি এবং ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ জানাননি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের আরাকানের অধিবাসী। কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরব গিয়েছে। তবে এ ধরনের ছোটখাটো প্রশাসনিক জটিলতা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে না।
চীনের সহায়তায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশ তার প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো দেশের সাহায্য গ্রহণ করতে পারে। অন্য কোনো দেশের মন্তব্য আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চীন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, নিজের ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা হয়নি। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদির নিয়োগ বহাল থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








