News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পথে ইসি

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পথে ইসি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে যখন প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচনি আচরণ বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও রাজনৈতিক দলের নাম যুক্ত করার সুযোগ মিলবে। পাশাপাশি প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আসছে শিথিলতা।

ইসি সূত্র জানায়, বিদ্যমান আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক কিংবা দলের নাম ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। তবে একাধিক রাজনৈতিক দলের আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিশন এই বিধান পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রার্থীরা আর এই সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বেন না।

সূত্র মতে, ভোটার স্লিপে প্রার্থীর পরিচয় সংযুক্ত করার দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছিল বিএনপি। দলটির আবেদনের পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ভোটার স্লিপ ব্যবহারের যে বিধান রয়েছে, সেটিতে সংশোধন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশোধনীটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

একই প্রসঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আচরণ বিধিমালায় মূলত দুটি বিষয়ে সংশোধন আনা হচ্ছে- একটি ভোটার স্লিপ, অন্যটি মাইক ব্যবহারের নিয়ম।

তিনি বলেন, মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে। আর ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ব্যবহারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন ও গণভোটে নিরপেক্ষ ভূমিকার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী ভোটার স্লিপে কেবল ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে বিতরণ করা যেত। সংশোধনী কার্যকর হলে এসব তথ্যের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম যুক্ত করে ভোটারদের কাছে স্লিপ বিতরণ করা যাবে।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভোটার নম্বর ও প্রার্থীর পরিচয় একসঙ্গে থাকলে ভোটারদের জন্য কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। যেহেতু আচরণ বিধিমালা পরিবর্তনের এখতিয়ার ইসির রয়েছে, তাই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ৮ ধারায় ভোটার স্লিপ ব্যবহারে বলা হয়েছে, ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে স্লিপ দেওয়া যাবে, তবে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে তা বিতরণ করা যাবে না। স্লিপের আকার নির্ধারিত (১২×৮ সেন্টিমিটার) এবং এতে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক বা ভোট প্রার্থনার কোনো ইঙ্গিত রাখা যাবে না। এছাড়া মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখ উল্লেখ বাধ্যতামূলক।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হচ্ছে, ভোটার স্লিপে ভোটারের তথ্যের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও রাজনৈতিক দলের নাম সংযুক্ত করে বিতরণ করা যাবে।

এদিকে প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে একসঙ্গে তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতাও আছে। সংশোধনের পর এসব বিধান আরও নমনীয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে।

উল্লেখ্য, আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত ঘোষণার পর আগেও এক দফা সংশোধন করেছিল নির্বাচন কমিশন। তখন কারিগরি ও করণীক ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়। এবার দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের সংশোধনী আনতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়