দ্বিতীয় দিনেও হাদির কবর জিয়ারতে জনস্রোত
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে। সমাহিত করার পর থেকেই সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাদির কবর জিয়ারত করতে মানুষের ঢল নামে। অনেকেই সমাধিস্থলে প্রবেশ করতে না পারলেও কবরস্থানের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। কেউ দুহাত তুলে অঝোরে কাঁদেন, কেউ নিচুস্বরে কোরআনের আয়াত পাঠ করেন।
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় স্বজন, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা অশ্রুসজল চোখে তাকে শেষ বিদায় জানান।
শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি
পরিবারের সিদ্ধান্তে পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
শুক্রবার তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং শনিবার জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








