ভেপ-ইসিগারেটে লুকানো নতুন মাদক এমডিএমবি
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো নতুন ধরনের সিনথেটিক মাদক এমডিএমবি উদ্ধার করেছে। ভেপ ও ই-সিগারেটের মাধ্যমে গোপনে ছড়িয়ে পড়া এই মাদকের বড় একটি চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। একই সঙ্গে চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৪০ মিলিলিটার এমডিএমবি, সিবিডি মিশ্রিত গাঁজার চকলেট, ভেপ ডিভাইস, ই-লিকুইড এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত খালি ক্যানিস্টার।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসি’র প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ জানান, দেশের তরুণ সমাজে ই-সিগারেট ও ভেপের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত নিকোটিন বা তামাকজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হলেও সম্প্রতি এতে নতুন ধরনের সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ (NPS) এবং ভয়ঙ্কর এমডিএমবি মেশানো হচ্ছে। এমডিএমবি কয়েক ফোঁটার মধ্যেই মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এটি দ্রুত নেশার আসক্তি সৃষ্টি করে, যা হ্যালুসিনেশন, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ঘটায়।
ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের তত্ত্বাবধানে ঢাকা গোয়েন্দা দল অফলাইন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডার্ক ওয়েবে নজরদারি শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত তামিমের কাছ থেকে ২০ মিলি এমডিএমবি সহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। তামিমের জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট মেহেদী হাসান রাকিবকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তী নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে ১০ মিলি এমডিএমবি সহ রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে ভাতা আন্দোলনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা
রাকিবের জবানবন্দিতে উদ্ঘাটিত হয় দেশের অভ্যন্তরে থাকা একটি এমডিএমবি-সাপ্লাই নেটওয়ার্ক। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে মাদক আনার মূলহোতা হিসেবে শনাক্ত হন আশরাফুল ইসলাম ও মো. মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস। সমন্বিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার এবং বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩১০ মিলিলিটার এমডিএমবি-পিনাকা (৫ কন্টেইনারে), সিবিডি মিশ্রিত গাঁজার চকলেট, ভেপ ডিভাইস, ই-লিকুইড এবং খালি ক্যানিস্টার উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির মহাপরিচালক জানান, এই চক্র অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপকে ‘অদৃশ্য বাজার’ হিসেবে ব্যবহার করত। তারা ক্লোজড গ্রুপ, রিভিউ পেজ এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টে সংকেতভিত্তিক পোস্ট দিত, যেখানে সাধারণ ফ্লেভার, গেমিং টুল বা ‘পোর্টেবল ডিভাইস’-এর আড়ালে বোঝানো হতো আসল পণ্য। আগ্রহী ক্রেতা ইনবক্সে মেসেজ পাঠালে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে কোডওয়ার্ডে দাম নির্ধারণ, অবস্থান শেয়ার, লাইভ ট্র্যাকিং ও বিশেষ ইমোজি ব্যবহার করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো। এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী বুঝতেই পারত না যে এটি এমডিএমবি।
গ্রেফতারকৃতরা হলো খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম (২৬), মেহেদী হাসান রাকিব (২৬), মো. মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস (২৭) এবং আশরাফুল ইসলাম (২৫)।
তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি বাজারে এমডিএমবি ছড়িয়ে পড়া রোধে আরও তৎপর থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








