সচিবালয়ে ভাতা আন্দোলনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা
ফাইল ছবি
সচিবালয় ভাতা দাবিতে সচিবালয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন, মিছিল-সমাবেশ এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপি শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি আচরণবিধি অমান্য করে সচিবালয়ের ভেতরে মিছিল, মিটিং ও আন্দোলন পরিচালনা এবং রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রাখা প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদীউল কবির; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রব্বানী; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম; তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. কামাল হোসেন; অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আলিমুজ্জামান; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইসলামুল হক, মহসীন আলী ও তায়েফুল ইসলাম; এবং মন্ত্রী-পরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক মো. নাসিরুল হক নাসির। মামলা দায়েরের পর তাদের সবাইকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কোর্টে চালান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুলিশের ৩৯ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার, যখন সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তারা ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সচিবালয়ের বিভিন্ন স্পটে মিছিল ও সমাবেশ করেন এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওইদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত চারজনকে হেফাজতে নেয়। বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে এবং বাদামতলায় অবস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
বিকেল ৩টায় আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি মেনে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনরতদের একাংশ ওইদিনই ঘোষণা দেয়, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে সচিবালয় বন্ধ রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করেও তারা কর্মসূচি স্থগিত না করায় চারজনকে আন্দোলনস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আন্দোলন দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কারা কীভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তা নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সচিবালয়ের ১১ নম্বর ভবনের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ পুরো এলাকা থেকে ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল থেকেও ফুটেজ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের যুগ্ম-কমিশনার সানা শামীনুর রহমান বলেন, আন্দোলনকারীরা সচিবালয় বন্ধ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এবং আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করতে অন দ্য স্পট গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে দুইবার শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেছেন। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে সংযুক্ত পরিষদের মহাসচিব নিজাম উদ্দিন বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। সরকারি ভাতা কার্যকরের দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি এখন আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং ঘটনাটির পরবর্তী ধাপ পুরো সচিবালয়ের প্রশাসনিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








