আসিফ-মাহফুজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ফাইল ছবি
যুব অধিকার পরিষদ বাংলাদেশের সাবেক দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুব অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
একই সময়ে দুদকের সামনে ‘ছাত্র–জনতা’ উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই উপদেষ্টার গত ১৭ মাসের সম্পদের হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আমলে না নিয়ে এদের দুজনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘেরাও করা হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাহফুজ আলমের পিএস ও এপিএস দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
মামুন উল্লেখ করেন, উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, এইসব অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করেছেন উপদেষ্টা আসিফ ও মাহফুজ
বক্তারা অভিযোগ করেন, দুদক যে কোনো সরকারের ছায়াতলে থেকে কাজ করছে। এ কারণে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় না। পাশাপাশি তারা জানান, সদ্য পদত্যাগ করা দুই উপদেষ্টার অধীনে গত ১৭ মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দুর্নীতির চিত্রও প্রকাশ হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে বক্তারা অভিযোগ করেন, দুই উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও এপিএস-এর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগে দুদক এখনও নীরব রয়েছে। এ কারণে, এই দুই উপদেষ্টা তাদের প্রার্থিতার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুদক সংলগ্ন মানববন্ধনে তাদের পদত্যাগের সঙ্গে নির্বাচনী যোগ্যতা সম্পর্কিত দাবিও উঠে আসে।
একই দিন বিকেলে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তফসিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।
রাতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে। এর আগ পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এদিকে, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম মাহমুদ জানান, সরকারের সাবেক এই দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি দুদক।
তিনি বলেন, দুই উপদেষ্টার পিএস ও এপিএস দুর্নীতি করেছে, এবং এর দায় তারা এড়াতে পারবে না। দুদক অনুসন্ধান শুরু করলেও তা এখনও অন্ধকারে রয়েছে। তাই যেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
জানা গেছে, যুব অধিকার পরিষদ আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








