News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘মাতৃভাষার মর্যাদা ও বীর শহীদদের আত্মদানই আমাদের প্রেরণা’

‘মাতৃভাষার মর্যাদা ও বীর শহীদদের আত্মদানই আমাদের প্রেরণা’

ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে দেশজুড়ে পালিত হবে এই বিশেষ দিনটি। 

দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা। 

তিনি বলেন, এই চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার এই অর্জিত গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বীর সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সরকারপ্রধান বলেন, আমি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ সেই সকল নাম না জানা শহীদদের, যাঁদের অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছি। 

তিনি আরও বলেন, এই আত্মদানের মধ্য দিয়েই তৎকালীন পূর্ব বাংলার শত বছরের শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির প্রথম সোপান রচিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী

বাণীতে একুশকে জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান বলেন, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন শুধু ভাষার লড়াই ছিল না; এটি বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে মজবুত করেছে। একুশের সেই রক্তাক্ত পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এছাড়াও তিনি ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবৎকাল পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির এই অনন্য ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তিনি বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্য রক্ষা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

সকল ভাষা শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়