একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে তিনি এই ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়ার জামিল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পরে রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
দিবসটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনো সরাসরি হুমকি নেই। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ মিনার কেন্দ্রিক সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাবের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রয়োজনীয় সুইপিং সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য র্যাবের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে। ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপদভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দায়িত্ব পেলেন ৮ উপদেষ্টা, কার দায়িত্বে কোন মন্ত্রণালয়?
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনার ও আশপাশে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
শহীদ মিনার ও আশেপাশে ৬৪টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। দেশের সব জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে। দাবি আদায়ের নামে জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হবে না।
মাতৃভাষা দিবস বাঙালি জাতির কাছে গভীর শোক ও বেদনার দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র ও যুবসমাজ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।
একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখবে। ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব স্যাটেলাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হবে। দিবসটি ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত, যা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে।
এইভাবে, প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দিবসটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জাতীয় শোকচিহ্ন হিসেবে পালিত হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








