News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতের স্পাইসজেটের ওপর বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের স্পাইসজেটের ওপর বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে আকাশপথ ব্যবহারের বকেয়া নেভিগেশন বা ওভারফ্লাইট চার্জ পরিশোধ না করায় ভারতের স্বল্পমূল্যের বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ওপর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম বিপাকে পড়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কলকাতা থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করতে না পারায় স্পাইসজেটের ফ্লাইটের দূরত্ব, সময় এবং পরিচালন ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক। স্পাইসজেটের কাছে এই খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে। বারবার তাগাদা ও সময় দেওয়ার পরও সংস্থাটি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে স্পাইসজেটের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি ও ইম্ফলগামী ফ্লাইটগুলো এখন বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প করিডোর ব্যবহার করছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণভিত্তিক ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪- এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকেই সংশ্লিষ্ট রুটের ফ্লাইটগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যাচ্ছে।

সাধারণত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি উভয়ই সাশ্রয় হয়। কিন্তু বর্তমানে ঘুরপথে চলাচলের কারণে প্রতিটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের সময় বেড়েছে এবং জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বল্প দূরত্বের এই রুটগুলোতে ওভারফ্লাইট অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তা না থাকলে পরিচালন ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

এদিকে স্পাইসজেট ইতোমধ্যেই আর্থিক সংকটে রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটি ২৬৯ দশমিক ২৭ কোটি রুপি নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। বাড়তি ব্যয় ও এককালীন কিছু খরচের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় তাদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংস্থাটির একজন মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও পিটিআইকে জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। 

এক বিবৃতিতে স্পাইসজেট জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত ব্যবসায়িক ও পরিচালনাগত প্রক্রিয়ার অংশ এবং নেভিগেশন সংক্রান্ত চার্জসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা চলছে। 

তারা দাবি করেছে, ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেবা অব্যাহত রয়েছে। বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

স্পাইসজেটের চিফ বিজনেস অফিসার দেবজো মহর্ষি বলেন, গত ত্রৈমাসিকে সংস্থার সক্ষমতা দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা ব্যবসার প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ২০২৬ সালের মধ্যে দৈনিক ৩০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে তারা।

তবে খাত সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে স্পাইসজেটের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, পূর্বাঞ্চলীয় রুটে নিয়মিত দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করলে জ্বালানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব দেখা গেছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার বিকেলের লেনদেনে স্পাইসজেটের শেয়ারদর প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৮১ রুপিতে নেমে আসে। 

অন্যদিকে কিছু লেনদেনে শেয়ারের দর ৬ দশমিক ৮ রুপিতেও নেমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বকেয়া পরিশোধ করে পুনরায় অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রুটে স্বাভাবিক ও সংক্ষিপ্ত আকাশপথ ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করা স্পাইসজেটের জন্য কঠিন হয়ে থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়