News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় স্বার্থই শেষ কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় স্বার্থই শেষ কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি

দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ দর্শনকে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি সম্মানজনক ও কল্যাণকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন ড. খলিলুর রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। 

তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের বৈদেশিক সম্পৃক্ততা এখন থেকে নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিচালিত হবে জাতীয় স্বার্থের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বিভিন্ন বক্তব্যে যে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির কথা বলেছেন, সেটিই হবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মূল চালিকাশক্তি। এই নীতিটি মূলত পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে: সার্বভৌম সমতা, একে অপরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা না করা, জাতীয় মর্যাদা রক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থের সুরক্ষা। 

ড. রহমান দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে শেষ সীমা পর্যন্ত রক্ষা করব এবং কোনোভাবেই জাতীয় অসম্মান মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ঐতিহাসিক সফলতার প্রসঙ্গে টেনে মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার সেই ইতিবাচক ও বিস্তৃত পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যেতে চায়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ, নিরাপত্তা পরিষদে আসন জয় এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের যে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল, সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করাই বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি আত্মবিশ্বাসী ও প্রো-অ্যাক্টিভ কূটনীতির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করা সম্ভব।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে ড. রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি উভয় পক্ষের সাথেই সরকারের যোগাযোগ রয়েছে এবং এই সংকটের একটি দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সময়মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে তা জানানো হবে।

পররাষ্ট্রনীতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে অভিহিত করে ড. খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। 

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসতর্ক বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার কূটনৈতিক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ ‘জনকেন্দ্রিক’ করতে চায় এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক নজরদারির প্রত্যাশা করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়