News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১১, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মুখ খুললে শুধু প্যান্ট নয়, আন্ডারওয়্যারও খসে পড়বে: ফয়েজ তৈয়্যব

মুখ খুললে শুধু প্যান্ট নয়, আন্ডারওয়্যারও খসে পড়বে: ফয়েজ তৈয়্যব

ছবি: সংগৃহীত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, টেলিকম খাতে তার সময়ে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই রাখা হয়নি। 

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, টেলিকমের দুর্নীতির প্রধানতম উৎস লাইসেন্স দেওয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো লাইসেন্স দিইনি। ফলে দুর্নীতি করার কোনো স্কোপই আমি রাখিনি। 

তিনি জানান, লাইসেন্স না দেওয়ায় রাজনৈতিক দলের অনেক মানুষ তার ওপর নাখোশ হয়েছেন। 

এ প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন, মুখ খুললে বহু ভদ্রলোকের শুধু প্যান্টই নয়, আন্ডারওয়্যারও খসে পড়ার চান্স আছে। তাই আমার সঙ্গে হিসাব করে পাঙ্গা লড়তে আইসেন। বরং আমার কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করুন, দেশের দু-পয়সা উপকার হবে।

পোস্টে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ও টেলিকম খাতে তার সময়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালার তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। 

আইসিটি খাতের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৬ (গেজেট প্রকাশিত), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সোর্স কোড পলিসি ২০২৬ (আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত), ন্যাশনাল এআই পলিসি ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত) এবং ন্যাশনাল ক্লাউড পলিসি ২০২৬ (খসড়া প্রকাশিত)।

আরও পড়ুন: নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন ড. নাসিমুল গনি

টেলিকম খাতে তার সময়ে গৃহীত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে টেলিকম লাইসেন্স ও নেটওয়ার্কিং পলিসি (গেজেট প্রকাশিত), টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ (গেজেট প্রকাশিত), ন্যাশনাল সার্ভেইল্যান্স প্রসেস প্রস্তাবনা (নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন), টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সসমূহের নতুন গাইডলাইন (গৃহীত) এবং রোলআউট অবলিগেশন ও কেপিআই বেঞ্চমার্কিং (গৃহীত)।

ডাক বিভাগে সংস্কার কার্যক্রম হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ডাকসেবা অধ্যাদেশ ২০২৬, নতুন ঠিকানা ব্যবস্থাপনা ও ম্যাপিং, ভাসমান ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন উদ্যোগ, ডিজিটাল পার্সেল ও পোস্টাল ট্র্যাকিং এবং ই-কমার্স রূপান্তরের জন্য সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং।

ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সব টেলিকম আইন, নীতি ও গাইডলাইন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন পারফরম্যান্স বেঞ্চমার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিকে তার কাজের মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় ভবিষ্যতে কেউ দেশে কাজ করতে আগ্রহী হবে না।

নিজের দায়িত্বকাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১১ মাসে কী করেছেন এবং কেন করেছেন তা নিয়ে তিনি ‘নোট টু সাকসেসর’ লিখে রেখে গেছেন, যা তার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। 

তার ভাষায়, পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি শক্ত ভিত্তির ওপর কাজ করার সুযোগ পাবেন। কিছু পরিবর্তন করতে চাইলে বেজলাইনের ওপর তা করা সহজ হবে, তবে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তা নথিভুক্ত থাকবে এবং ইতিহাসের কাছেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। টুকটাক পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রশাসন অবশ্যই করবে, কিন্তু পুরো ইকোসিস্টেম পরিবর্তন করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়