News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৫, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দায়িত্ব শেষে শিক্ষকতায় ফেরার ইচ্ছা অর্থ উপদেষ্টার

দায়িত্ব শেষে শিক্ষকতায় ফেরার ইচ্ছা অর্থ উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের কর্মকালকে ১০০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর দেন এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য ৫টি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।

নিজের ১৮ মাসের দায়িত্বকালকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, আমি খুব বাস্তববাদী মানুষ। অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাঠামোগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়মের কারণে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতিগত সংস্কার পুরোপুরি শেষ করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে। তবুও কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়া আমরা যে জনস্বার্থে কাজ শুরু করেছি, সেটিই বড় অর্জন। 

তিনি জানান, কর নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা বা গাইডলাইন রিপোর্ট তিনি রেখে যাচ্ছেন, যা পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন জানান, অর্থ পাচারকারীরা অত্যন্ত দক্ষ হলেও তাদের চিহ্নিত করা গেছে। কারা, কোন দেশে অর্থ পাচার করেছে সেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা ও ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’-এর মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এখনই সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বলা কঠিন। নির্বাচিত সরকার আন্তরিক হলে এই ভিত্তি কাজে লাগিয়ে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। 

ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমানত বাড়লেও আস্থাহীনতা ও খেলাপি ঋণের সংকট এখনো কাটেনি। ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ চলছে। 

আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন প্রধান উপদেষ্টা

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল আইনের মাধ্যমে গভর্নরের মর্যাদা বাড়ালেই হবে না, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপারেশনাল সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত স্বাধীনতা।

পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ৫টি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন: ১. ব্যবসা ও শিল্প সচল করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ২. সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো। ৩. ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ। ৪. এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো। ৫. পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করে ব্যাংক-নির্ভরতা কমানো।

তিনি পরামর্শ দেন, হংকং বা সিঙ্গাপুর মডেলের পেছনে না ছুটে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) শক্তিশালী করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং অফশোর ড্রিলিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থ উপদেষ্টা। সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। 

এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই খাতটি আর কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকবে না; বিদ্যালয়গুলো নিজেরাই তাদের পছন্দমতো সংযোগ বেছে নিতে পারবে।

উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানান, আগামীতে নির্বাচিত সরকার চাইলে বর্তমান উপদেষ্টাদের অনিয়ম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারবে, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি ইতিমধ্যে তার সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দ্রুতই প্রকাশ করবে। 

ভবিষ্যৎ সরকারের উদ্দেশ্যে তার মূল বক্তব্য, নতুন করে সব আবিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। আমরা যে সংস্কারগুলো শুরু করেছি, সেগুলোকে সংহত করুন। প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করুন।

সবশেষে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে সরকারের অংশ হওয়ার চেয়ে শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তাবই তার কাছে অধিকতর পছন্দনীয়। 

তিনি গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন যেন খণ্ডিত চিত্র না দেখে গত ১৮ মাসের সামগ্রিক অর্জনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়