News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩২, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সালে গড়ে ৭৫ আগুন, বছরে ২৭ হাজার অগ্নিকাণ্ড

২০২৫ সালে গড়ে ৭৫ আগুন, বছরে ২৭ হাজার অগ্নিকাণ্ড

ফাইল ছবি

২০২৫ সালে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ড ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক পরিসংখ্যানে। 

অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশে মোট ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রতিদিনের গড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৫টি। এসব দুর্ঘটনায় ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৬৭ জন। জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে ৩ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মীকেও।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া বিভাগ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

কারণভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৩৯২টি (৩৪.৭১%) আগুনের ঘটনা ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি (১৫.৭৮%), চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫%), গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজে ৯২০টি (৩.৪০%) এবং গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজে ৫৬২টি (২.০৮%) আগুন লাগে। ছোটদের আগুন নিয়ে খেলা, উত্তপ্ত ছাই, কয়েল ও আতশবাজিও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে ৮ হাজার ৭০৫টি, যা মোট ঘটনার ৩২.১৭ শতাংশ। এছাড়া খড়ের গাদা (৩,৯২২টি), দোকান (১,৮০০টি), হাট-বাজার (১,০৬৭টি), শপিং মল (৬১৭টি), পোশাক শিল্প (৬৬৫টি) এবং অন্যান্য কলকারখানায় (৬১৫টি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আগুনের ঘটনা ঘটে। বহুতল ভবনে (৬ তলার ওপরে) ৭১টি এবং রেস্টুরেন্ট-হোটেলে ১৫৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

পরিবহন খাতেও আগুনের ঘটনা কম নয়। বছরে বাসে ১৫৩টি, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি ও জাহাজে ২টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগে।

আরও পড়ুন: দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম: টিআইবি

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে মার্চে সবচেয়ে বেশি ৩,৫২২টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এরপর এপ্রিল (৩,০৩৫টি), ফেব্রুয়ারি (২,৮৮৫টি), ডিসেম্বর (২,৭২৪টি) ও জানুয়ারিতে (২,৭০৮টি) বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়। এসব মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৩টি আগুন লাগে।

হতাহতদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। আহত ২৬৭ জনের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ ও ৭০ জন নারী। নিহত ৮৫ জনের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৯ জন নারী। বাসাবাড়িতে ৭৭ জন আহত ও ২২ জন নিহত হন। রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৮ জন, আর বিমানের অগ্নিদুর্ঘটনায় আহত ১১৬ ও নিহত ৩৫ জন।

অগ্নিকাণ্ড ছাড়াও ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ১০ হাজার ১৪০টি দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৩৩৩ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ১ হাজার ৭৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ৭,৮১৫টি ঘটনায় অংশ নিয়ে ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ও ১ হাজার ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাস দুর্ঘটনায় ১,৯৩৪ জন আহত ও ২৮৯ জন নিহত এবং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২,১৯০ জন আহত ও ১৯৩ জন নিহত হন।

অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে বছরজুড়ে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৩,৩১৬টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ৬২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬,৫৯৫টি সন্তোষজনক বলে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৮টির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জনসচেতনতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ১৫,৮৬৫টি মহড়া, ৩,৭২২টি ফায়ার ড্রিল, ২,০৭৮টি সার্ভে এবং ১৪,৯৮৭টি গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এছাড়া ৪,৩৪৫টি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ জনকে মৌলিক অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পোশাক শিল্পে ৩,৯২১টি কোর্সের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪০ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন ৪২০ জন আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি এবং ১,০৩৯ জনকে সতেজকরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্যাস লাইন নিয়মিত পরীক্ষা এবং অসতর্ক আচরণ এড়াতে পারলেই অগ্নিকাণ্ডের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়