News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে ইসির কঠোর নির্দেশনা

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে ইসির কঠোর নির্দেশনা

ফাইল ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এই নির্দেশনার বিষয়ে অবহিত করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার চালাতে চান, তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের শনাক্তকরণ তথ্য আগেভাগেই প্রকাশ করতে হবে। 

বিধিমালার ১৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি এবং ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রচারণা শুরুর পূর্বেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই আগাম তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে কমিশন। 

আরও পড়ুন: ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাতিল ইসির

বিধিমালার ২২(২) বিধি উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, অনলাইনে কোনো নির্বাচনি বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং কিংবা স্পন্সরশিপের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ প্রার্থীর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এই খাতে ব্যয়কৃত সকল অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল যাতে নির্ধারিত ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করতে না পারে, সেজন্যই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচকে মূল ব্যয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

কমিশন তাদের চিঠিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর তথ্য গুরুত্বের সাথে সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত এই তথ্যসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচনের মাঠের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের প্রচারণাও যাতে আচরণবিধির মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় এই ডিজিটাল তদারকি অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা বেনামি উৎস থেকে অপপ্রচার রোধ করা এবং নির্বাচনি খরচে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে। 

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়