ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাতিল ইসির
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক আপত্তির প্রেক্ষাপটে নেওয়া এ সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আর ক্যাডেটদের দায়িত্ব দেওয়া হবে না; তারা এখন কেবল পোস্টাল ব্যালট গণনা কেন্দ্র এবং ইসি সচিবালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধিত নির্দেশনা ও চিঠি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত তথ্যপ্রযুক্তি-সহায়িত পোস্টাল ব্যালট, ওসিভি ও আইসিপিভি গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসি ক্যাডেটরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রে আগত ভোটারদের সারিবদ্ধ রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী ভোটারদের সহায়তা করা, ভোটকক্ষসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ এবং নির্বাচনি কাজে সহযোগিতাসহ নানা দায়িত্বে বিএনসিসিকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
গত রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দলের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না করার দাবি জানায়।
আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীভিত্তিক ও অরাজনৈতিক এ বাহিনীকে নির্বাচনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে যুক্ত করলে ছাত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়ই বিতর্কিত হতে পারে। তাদের এই দাবির দুই দিনের মাথায় আগের অবস্থান থেকে সরে আসে নির্বাচন কমিশন।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন। নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার আগে ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ক্যাডেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না।
মোতায়েন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তিনটি নির্বাচনি এলাকার জন্য একটি করে সেকশন—একজন করপোরাল ও ১০ জন ক্যাডেট—হিসেবে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় মোট ১২৩টি সেকশন দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং পরিবেশন কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসির আরও পাঁচটি সেকশন মোতায়েন থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কাজ করবেন। আর ইসি সচিবালয়ে নিয়োজিত সদস্যরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের আগে ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা বা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করবেন। ক্যাডেটদের মোতায়েন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকেই বহন করা হবে।
রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে শেষ মুহূর্তে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, বিএনসিসিকে সরাসরি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখে সীমিত পরিসরে প্রশাসনিক সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








