News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার আশ্বাস আইজিপির

নির্বাচনে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার আশ্বাস আইজিপির

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। 

তিনি বলেন, এই নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং পুলিশের ভূমিকা জনগণের আস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের (পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স) ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’-তে ২০০৮ সালে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এএসপি প্রবেশনারদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি। 

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ ও রূপান্তরপর্ব অতিক্রম করছে। বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশ নিরলস ও সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই আস্থার বাস্তব প্রতিফলনের একটি বড় সুযোগ।

এএসপি প্রবেশনারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়; এটি তাদের ন্যায্য অবস্থান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয়ের ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটেছে এবং তারা তাদের বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধার করেছেন। পূর্বতন কর্মক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের শক্তি ও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: নির্বাচন-গণভোটে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, অপরাধের ধরন ও কৌশল বদলে যাচ্ছে। সাইবার জগতে অপরাধ বাড়ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে কেবল শারীরিক শক্তি বা প্রচলিত পদ্ধতিতে পুলিশিং কার্যকর নয়। প্রয়োজন বুদ্ধিনির্ভর নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বৈশ্বিক সচেতনতা এবং দ্রুত অভিযোজন সক্ষমতা। বাংলাদেশ পুলিশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে এএসপি প্রবেশনারদের সততা ও পেশাদারিত্ব ডিজিটাল পরিসরেও সমানভাবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি বাহারুল আলম আরও বলেন, প্রশিক্ষণকালে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা এবং বিধি-বিধানের প্রতি কঠোর আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে গ্রহণ করা প্রশিক্ষণই তাদের পেশাগত জীবনের ভিত্তি নির্ধারণ করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে প্রশিক্ষণরত এএসপি প্রবেশনারদের মধ্যে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৬০ জন, ২৮তম ব্যাচের ১ জন এবং ৪৩তম ব্যাচের ৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন নিয়োগবঞ্চিত থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি চাকরিতে যোগদান করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস) মুসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়