ঢাকা বিমানবন্দর ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহরের বিমানবন্দর এলাকা, কারওয়ান বাজার, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, যমুনা এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর ও নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েনের উদ্দেশ্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা।
বিশেষভাবে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকা, ডোমেস্টিক টার্মিনাল এবং অভ্যন্তরীণ গোলচত্বর এলাকায়ও বিশেষ নজরদারি রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় জনসমাগম ও যানজট, মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা
শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি আজ সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় বিভিন্ন প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়, ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলা ও ভাঙচুরে সংবাদকর্মীরা অবস্থান করতে বাধ্য হন এবং বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এবং বিমানবন্দর এলাকা সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








