News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৬, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আপডেট: ০৮:২৬, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ওসমান শরিফ হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

ওসমান শরিফ হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শোক দিবসে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই দিনে দেশের সব মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে মরহুম ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব সরকার নেবে। পাশাপাশি তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

এর আগে, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। এমন প্রেক্ষাপটেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারের সময় গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলি লাগায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের একজনকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার সহযোগী হিসেবে মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখের নামও উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা মোসা. হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। এ ছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, আব্দুল হান্নান, মো. হিরন, মো. রাজ্জাক, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকার মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিম।

আরও পড়ুন: না ফেরার দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি

উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগেই হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত নভেম্বরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজ দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। তবে জীবননাশের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়