News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২১, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
আপডেট: ০৮:২১, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

হাদির ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত: প্রধান উপদেষ্টা

হাদির ওপর হামলা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালের অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 

তিনি বলেছেন, এই হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “এই ধরনের হামলার চেষ্টা আমরা যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করে দেব। জাতির ওপর অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”

হামলার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “যত আঘাতই আসুক, যত ঝড়-তুফানই আসুক- কোনো শক্তিই আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করব।”

সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছায় তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেভাবেই হোক দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও এর পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।” তিনি দেশবাসীকে হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানায়, হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকায় যারা সম্ভাব্য টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, তাদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ভেপ-ইসিগারেটে লুকানো নতুন মাদক এমডিএমবি

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়