নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণ। 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল আবেদন করা হয়। 

আবেদনে এনবিআরের কর দাবির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি হাইকোর্টের রায় বাতিল ও স্থগিত চাওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই করবিরোধ এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন। এসব আবেদনের মূল বিষয় ছিল ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের দাবি করা আয়করের বৈধতা। 

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত জানান, সংশ্লিষ্ট কর দাবি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী সময়ে ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বকেয়া কর আদায়ের জন্য এনবিআরকে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মামলার রায় ও আদালতের পর্যবেক্ষণে গ্রামীণ কল্যাণের কর হিসাবের ক্ষেত্রে গ্রামীণ টেলিকমের নামে জমা দেওয়া উৎসে করের চালান ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের নামে জমা দেওয়া উৎসে করের চালানের সুবিধা গ্রামীণ কল্যাণ নিজেদের কর পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে দাবি করতে পারে না। এ ঘটনাকে রায়ে কর ফাঁকির একটি ধ্রুপদি নজির হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ আপিলের অনুমতি চাওয়ায় কর দাবির আইনগত ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিষয়গুলো আপিল বিভাগের বিবেচনার জন্য উত্থাপিত হয়েছে।

এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২০১৭ সালে এনবিআরের কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের বিষয়ে আগে দেওয়া একটি রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করেন এবং মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। পরে মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেই বেঞ্চেই পুনরায় শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট খারিজের রায় আসে। এখন আপিল বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের চ্যালেঞ্জ কোন পথে এগোয় এবং এনবিআরের দাবি করা বিপুল অঙ্কের কর আদায়ের প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়