নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কারিগরি শিক্ষায় চীনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

কারিগরি শিক্ষায় চীনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন এবং সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের দূরত্ব ঘুচিয়ে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে শিক্ষ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ প্রতিপাদ্যের এই সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং কারিগরি শিক্ষাবিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। 

টিভেটকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার একটি অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা মেটাতে কেবল গতানুগতিক একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সুনির্দিষ্ট সমন্বয় জরুরি।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয়

বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি কেবল নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঠ্যক্রম হবে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদামুখী, শিক্ষকরা পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করবেন এবং শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবিকার নতুন পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সেই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল। চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

এ সময় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন ড. মিলন: প্রথমত, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও অভিযোজনক্ষম করা; দ্বিতীয়ত, টিভেটের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; এবং তৃতীয়ত, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা।

মূল সম্মেলনের পাশাপাশি চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত ও গুণগত উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে একটি বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। উভয় পক্ষই এই অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের কারিগরি খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়