নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

‘ডেঙ্গুর টিকা আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

‘ডেঙ্গুর টিকা আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে অর্থের সংকট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। 

একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই রোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। 

ডেঙ্গুকে জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই হবে না, রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গুর টিকা আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। টিকা আমদানির উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে টিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ, কার্যকারিতা ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে। জনগণ সচেতন না হলে শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থ ব্যবহারের বিষয়েও একটি প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারের আর্থিক সহায়তায় জরিমানার অর্থ ব্যয় করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। 

তার মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ ও জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম হকার ও অটোরিকশাকে নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যদিও এখনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে নগরবাসীর ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় বিরোধী দলের ডেঙ্গু মোকাবিলায় দৃশ্যমান কর্মসূচি না থাকার সমালোচনাও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের রোগ নয়; বছরজুড়েই এটি জনস্বাস্থ্য ও জনভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে কিংবা সিঁড়ির নিচে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তার মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

অতীতের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ মশা নিধনের ওষুধ কেনা, পরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ, চিকিৎসা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার ও সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্বকে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থে রোগে মারা যাওয়া অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণে টিকার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হলে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি না থাকলে ডেঙ্গুর টিকা কেনার বিষয়েও সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান।

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা তার বক্তব্য অনুযায়ী দেশে এক বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি ও বিরোধী দলের বিতার্কিকরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতায় কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিরোধী দলকে পরাজিত করে একই কলেজের সরকারি দল বিজয়ী হয়। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, প্রতীক ইজাজ, মো. মেহেদী হাসান ও জেনিয়া কবির সূচনা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের হাতে ট্রফি তুলে দেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়