নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:০৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ২১:০৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বার্তা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বার্তা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, আর প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন নির্ভয়ে ও মর্যাদার সঙ্গে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পৃথক শুভেচ্ছাবার্তায় তারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিশ্বের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের সমঅধিকার, নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। 

তার মতে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। সত্য ও সুন্দরের আরাধনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের প্রত্যয় শারদীয় দুর্গোৎসবকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করে আসছেন। এই ঐতিহ্য দেশের আবহমান ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি এবং বহুত্ববাদী জীবনধারার সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে সব ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণ সাধনও ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম মূল বার্তা। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি অন্যের বিশ্বাস, অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। 

তিনি প্রত্যাশা করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চর্চায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সারা দেশে নিশ্চিন্তে, নিরাপদে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দুর্গাপূজার আনন্দ উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে আহ্বানও জানান তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বৃহৎ কর্মযজ্ঞ। এই যাত্রায় নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক মতভেদ যেন অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে প্রত্যাশাই তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। 

সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। 

আরও পড়ুন: মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ শুরু দুর্গোৎসব

তার শুভেচ্ছাবার্তার মূল প্রতিপাদ্য, ধর্মীয় পরিচয় প্রত্যেকের নিজস্ব হলেও রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সব নাগরিক সমান।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার শুভেচ্ছাবার্তায় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই উৎসব অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ের বার্তা বহন করে। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান এর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। 

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে বাংলার চিরায়ত সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশ ঘটে, যা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সবার বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে। 

তার প্রত্যাশা, শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য ও সুন্দরের আলোয় উদ্ভাসিত হবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

দুই শীর্ষ নেতার শুভেচ্ছাবার্তায় ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নাগরিকের নিরাপত্তা, সমঅধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়েও তা বিকশিত হয়। দুর্গোৎসবের এই সময়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বাস্তবে নিশ্চিত হোক এটাই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তার অভিন্ন প্রত্যাশা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়