আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১০:৪৩, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ট্রাকচাপায় ১২ পুণ্যার্থী নিহত

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ট্রাকচাপায় ১২ পুণ্যার্থী নিহত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর গোয়ালিয়রে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের চাপায় অন্তত ১২ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ থেকে ৩০ জন তীর্থযাত্রী। চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ভারী ট্রাক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে গেলে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

দুর্ঘটনার পর ধানবোঝাই ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। এতে মন্দিরের প্রবেশপথের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গোয়ালিয়রের চিননোর (ছিনোর) দিক থেকে ধান ও শস্যবোঝাই একটি ভারী ট্রাক গোয়ালিয়রের দিকে আসছিল। 

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যে সড়কটি দিয়ে ট্রাকটি প্রবেশ করেছিল, সেখানে তীব্র খাড়া ঢাল রয়েছে এবং দুর্ঘটনা রোধে ওই নির্দিষ্ট সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে ভারী যানটি পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে ওই নিষিদ্ধ রাস্তায় প্রবেশ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গভীর রাতে চিননোরের দিক থেকে নেমে আসার সময় তীব্র ঢালু রাস্তায় পৌঁছানোর পর চালক ট্রাকটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পথিমধ্যে একটি চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড বসিয়ে ট্রাকটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ভারী যানটি সেই ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে সামনের দিকে ছুটে যায়। এ সময় নবরাত্রি উপলক্ষে শীতলা মাতা মন্দিরের আশপাশে সমবেত হওয়া এবং পায়ে হেঁটে মন্দিরের দিকে যাওয়া শত শত পুণ্যার্থীর ওপর ট্রাকটি সজোরে উঠে যায়। পুণ্যার্থীদের চাপা দেওয়ার পর ট্রাকটি সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় মন্দিরের মূল ফটক এবং সুরক্ষিত বাইরের দেয়ালে। ধাক্কার তীব্রতায় মন্দিরের দেয়াল ও গেটের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই আকস্মিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান এবং চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও পদদলনে নিহত ১৯

খবর পেয়ে গোয়ালিয়র জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য একাধিক অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন মোতায়েন করা হয়। 

গোয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ১২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহতদের পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় মন্দিরের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন। 

গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর হাড় ভাঙাসহ জখম রয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি আহতরা তুলনামূলক কম আঘাত পেয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর গোটা গোয়ালিয়র এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরে উপস্থিত পুণ্যার্থী ও তাদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। বিশেষ করে, ভারী যান চলাচলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি কীভাবে ওই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় প্রবেশ করল, চালক মদ্যপ ছিলেন কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্রেক ফেল করেছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ছাড়া ট্রাকটির যান্ত্রিক অবস্থা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত দলকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়