স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩০, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মেসির জাদুতে আটলান্টাকে উড়িয়ে দিল মিয়ামি

মেসির জাদুতে আটলান্টাকে উড়িয়ে দিল মিয়ামি

ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির পায়ের জাদুতে আবারও মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। দৃষ্টিনন্দন দুটি গোলের পাশাপাশি সতীর্থের গোলে অবদান রেখে ইন্টার মায়ামিকে জিতিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে আটলান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মায়ামি। এই জয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের দ্বিতীয় অবস্থান আরও মজবুত করেছে দলটি। ম্যাচটিতে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন মেসি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যায় সফরকারী মায়ামি। বিরতির পর চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেন মেসি। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও স্বাগতিকদের পক্ষে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে প্লে-অফের প্রস্তুতিও আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল মায়ামি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও আক্রমণে তুলনামূলক বেশি ধার দেখায় মায়ামি। ৪১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া ফ্রি-কিক আটলান্টার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। তবে বিরতির ঠিক আগে আর রক্ষা হয়নি স্বাগতিকদের। ৪৫তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের কাছ থেকে বল পেয়ে আক্রমণ গড়ে মায়ামি। মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সম্পৃক্ততায় বল পৌঁছে যায় হার্মান বেরতেরামের কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান এই মেক্সিকান ফরোয়ার্ড। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মায়ামি।

গোলটির পেছনে মেসির অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মৌসুমে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১৫-তে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে এমএলএসে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোল করা ও করানোর পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রেও যে তিনি সমান কার্যকর, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।

দ্বিতীয়ার্ধে মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৫৬তম মিনিটে মাঝমাঠের ডান দিক থেকে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে আটলান্টার রক্ষণভাগের দিকে এগিয়ে যান তিনি। সতীর্থ বেরতেরামের সঙ্গে চমৎকার পাস বিনিময়ের পর প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন আটবারের ব্যালন ডিঅরজয়ী এই তারকা। এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে কাটিয়ে গোলরক্ষক লুকাস হোয়সের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান মেসি। তার ব্যক্তিগত দক্ষতা, গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সমন্বয়ে পাওয়া গোলটি ব্যবধান বাড়িয়ে করে ২-০।

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আটলান্টার রক্ষণে আঘাত হানেন মেসি। ৬০তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে লুইস সুয়ারেজের বাড়ানো লম্বা পাস ধরে দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। সামনে থাকা ডিফেন্ডার জুনিয়র আলোনসোকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে মায়ামির জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন এই ফরোয়ার্ড। তার দ্বিতীয় গোলের পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।

আরও পড়ুন: মেসির দুই রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে ও হালান্ড

আটলান্টা ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করলেও মায়ামির রক্ষণভাগের সামনে বারবার বাধার মুখে পড়ে। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় স্বাগতিকেরা। ৮৯তম মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ফাফা পিকল্ট। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মায়ামির হাতে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

এই ম্যাচে মেসির জোড়া গোলের ফলে চলতি এমএলএস মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫-এ। গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায়ও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। এর আগে গত মৌসুমে ২৯ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে একাধিকবার অন্তত ২৫ গোল করার কীর্তি গড়া খেলোয়াড়দের তালিকায়ও তিনি বিরল অবস্থানে রয়েছেন। জোসেফ মার্তিনেজের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দুই মৌসুমে অন্তত ২৫টি করে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন মেসি।

গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মেসির অবদান এখন ৪০ গোলে। ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে কার্লোস ভেলার গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৯ গোল-অবদানের রেকর্ড ভাঙতে তাকে আরও নয়টি গোল-অবদানে পৌঁছাতে হবে। হাতে চারটি ম্যাচ থাকায় সেই রেকর্ডের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে মায়ামি অধিনায়কের। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ধারাবাহিকতাও তাকে এমএলএসের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও মায়ামির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আটলান্টাকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেওয়া দলটি এই তিন ম্যাচে করেছে মোট নয় গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র একটি। ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৩০ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মায়ামি আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে পারলে নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধাও পাবে তারা।

মেসির সামনে এখন ব্যক্তিগত ও দলীয় দুই ধরনের লক্ষ্যই রয়েছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনাও জোরালো করেছেন তিনি। 

অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে মায়ামির লক্ষ্য আরও বড়। ২০১১ ও ২০১২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর টানা দুই মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতা প্রথম দল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ক্লাবটি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই লক্ষ্যের পথে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতির পর ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে মেসি যে ছন্দে রয়েছেন, আটলান্টার বিপক্ষে ম্যাচটি তারই আরেকটি উদাহরণ। বয়স, অভিজ্ঞতা কিংবা প্রতিপক্ষের রক্ষণ কোনোটিই যেন তার সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষুধাকে থামাতে পারছে না। এক ম্যাচে জোড়া গোল, অ্যাসিস্ট এবং নতুন রেকর্ডের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, ইন্টার মায়ামির আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি কেবল ফল নির্ধারণ করে না, বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথও।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়