দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনের মাথায় বরখাস্ত হলেন ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব
কেটি জাচারিয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বরখাস্ত হয়েছেন কেটি জাচারিয়া।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছিলেন জাচারিয়া। তার আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সংবাদ ব্রিফিং ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা হয়।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তার বিদায়ের ঘটনা ঘটল। এ সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্জন তুলে ধরা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি জাচারিয়াকে নিজের চাকরি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি তাকে বলেছি, আমার মনে হয় তুমি সুখী হতে চাও। আমি নিশ্চিত নই, এ ধরনের দায়িত্বে তুমি সুখী হতে পারবে কি না। আমি হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতাম।
গত ১২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন জাচারিয়া। পরদিন মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর প্রেস সেক্রেটারি পদের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং এক সপ্তাহ আগে তাঁকে ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অতীতে আইন পেশায় যুক্ত থাকার দাবি করেছিলেন জাচারিয়া। ট্রাম্পও তাকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
বুধবার এক ইমেইল বিবৃতিতে জাচারিয়া বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন চর্চা করেছেন। তবে রয়টার্স এমন কোনো নথি খুঁজে পায়নি, যা প্রমাণ করে যে পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন কিংবা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া জানান, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ না পেলে আইনজীবী হিসেবে পেশাগতভাবে কাজ করা যায় না।
এদিকে, জাচারিয়ার বরখাস্তের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ইমেইলের তাৎক্ষণিক জবাব দেননি তিনি কিংবা হোয়াইট হাউস। এর আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প তার প্রশাসন সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রচার নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রশাসনের অর্জন আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন এমন একজন মুখপাত্র খুঁজছিলেন তিনি। সেই বিবেচনা থেকেই জাচারিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কোনো তাড়া নেই।
আরও পড়ুন: অভিজিতের পর নেহাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ
জাচারিয়ার দ্রুত বিদায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনের আরেকটি নজির তৈরি হলো। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এত দিন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ড ছিল তার।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাচারিয়ার বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে স্কারামুচি লেখেন, রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








